Anubrata Mondal
Bengal Liberty:
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি নিয়ে দীর্ঘ নীরবতার পর মুখ খুললেন বীরভূমের প্রবীণ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি দলের পরাজয়ের জন্য সরাসরি আইপ্যাককে দায়ী করেন এবং একইসঙ্গে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনুব্রত মণ্ডলের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান এবং ক্ষমতায় আসার সময় আইপ্যাকের কোনও ভূমিকা ছিল না। ১৯৯৮ সালে দল গঠন থেকে শুরু করে ২০০৯, ২০১১, ২০১৪, ২০১৬ এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনী সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংগঠনের শক্তিতেই দল এগিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আইপ্যাক দলের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ভুল পথে পরিচালিত করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন নির্বাচন এবং দলীয় পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “সংগঠন দিয়ে দল চলে, আইপ্যাক দিয়ে নয়। বাইরে থেকে আসা লোকজন বীরভূম বা বাংলার বাস্তব রাজনীতি বুঝতে পারেনি।”

সম্মান পেলে দল করব, না পেলে চুপ থাকব
দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে অনুব্রত জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একা হয়ে যেতে দেখে তাঁর খারাপ লাগছে। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা ভালোবাসতাম। কিন্তু শেষদিকে তিনি কার প্রভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা বুঝতে পারিনি।” নির্বাচনে নিজের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাঁকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। কোর কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছিল, বিধায়করা ডাকলে তিনি যাবেন। তাই তিনি নিজে থেকে নির্বাচনী কাজে সক্রিয় হননি।বীরভূমে বিজেপির ভালো ফল সম্পর্কে অনুব্রত বলেন, “ওরা পরিশ্রম করেছে, তাই জিতেছে। তবে আমাকে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি, এটাও সত্যি।”

দলের একাংশের নেতা-বিধায়করা আলাদা রাজনৈতিক মঞ্চ গঠন করলেও তাঁদের সমালোচনা করতে চাননি অনুব্রত। তাঁর বক্তব্য, “তারা কোনও অন্যায় করেনি। বিজেপিতে যায়নি, আলাদা একটি ফ্রন্ট তৈরি করেছে।” নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “সম্মান পেলে দল করব, সম্মান না পেলে চুপচাপ থাকব। অন্য কোনও দলে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করিনি। এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের ছাপই আমার গায়ে রয়েছে।” জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর কার্যত সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে রয়েছেন বলেও জানান অনুব্রত। তাঁর দাবি, নির্বাচনে তাঁর কোনও কার্যকর ভূমিকা ছিল না। তবে এখনও নিয়মিত বীরভূম জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে যান তিনি। দলীয় কার্যালয়কে ‘মন্দির’ বলেই উল্লেখ করেন কেষ্ট। তাঁর কথায়, “এটা শুধু দলীয় অফিস নয়, আমার কাছে মন্দিরের মতো। তাই প্রতিদিন একবার করে এখানে আসি।”
প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের সময় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলে তিনি দীর্ঘদিন জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০২২ সালে গোরু পাচার ও আর্থিক তছরুপ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পরও কিছু সময় জেলা সভাপতির পদে ছিলেন তিনি। পরে কোর কমিটি গঠন করে জেলার সাংগঠনিক দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়। জামিনে মুক্তির পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরলেও আর কোনও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ পাননি।
এবার বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবি নিয়ে মুখ খুলে একদিকে যেমন আইপ্যাককে কাঠগড়ায় তুললেন অনুব্রত মণ্ডল, তেমনই দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তোষের ইঙ্গিত দিলেন একসময়ের ‘দিদির প্রিয় কেষ্ট’।


