CM Suvendu Adhikari
Bengal Liberty, ১২ জুন :
রাজ্যে পালাবদল হতে না হতেই ধর্মের ভিত্তিতে বিভিন্ন ভাতা ও অনুদান প্রকল্পে রাশ টেনেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তারপর থেকে অনেকেরই প্রশ্ন ছিল, নতুন সরকারের নীতিতে কি এবার পুজোর অনুদান বন্ধ হয়ে যাবে? সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দুর্গাপুজোর অনুদান সম্পূর্ণ বন্ধ হচ্ছে না। তবে এবার থেকে অনুদান বণ্টনে আসবে নতুন নীতি। যেসব ক্লাব সরকারি সহায়তার উপর নির্ভর করে পুজোর আয়োজন করে, তারাই অনুদান পাবে। আর যেসব বড় ও আর্থিকভাবে স্বনির্ভর ক্লাবের সেই প্রয়োজন নেই, তারা সরকারি অনুদানের আওতার বাইরে থাকবে (CM Suvendu Adhikari)। অর্থাৎ ক্লাবের আর্থিক সক্ষমতাকেই এবার অনুদান দেওয়ার প্রধান মাপকাঠি হিসেবে ধরা হবে। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন,”আগামী দিনে রাজ্যে দুর্গাপুজোর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।”

মমতার আমলে বছরে বছরে বেড়েছে অনুদানের অঙ্ক (CM Suvendu Adhikari)
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলেই ২০১৮ সালে দুর্গাপুজোর জন্য সরকারি অনুদান দেওয়ার প্রথা চালু হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল, পুজোর আয়োজন করতে গিয়ে যাতে ক্লাবগুলিকে আর্থিক সমস্যার মুখে পড়তে না হয়। প্রথম বছর রাজ্যের প্রতিটি পুজো কমিটিকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকারি অর্থ এইভাবে ব্যয়ের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়। কিন্তু কোনও সমালোচনায় কান না দিয়ে প্রতি বছরই অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়েছে তৎকালীন সরকার। ২০২৫ সালে সেই অনুদানের অঙ্ক পৌঁছে যায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায়। ফলে রাজ্যের কোষাগার থেকে এই খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। বিশেষ করে কয়েক কোটি টাকার বাজেটে পুজো আয়োজন করা বড় ক্লাবগুলোকেও একইভাবে সরকারি অনুদান দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছিল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। এই সম্পূর্ন ব্যবস্থায় যবনিকা ফেললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।



