Sumit Roy
Bengal Liberty, ১৭ জুন :
জমি জালিয়াতি ও কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে সন্ধান শুরু হয় অভিষেকের আপ্তসহায়কের (Sumit Roy)। মোবাইলের শেষ টাওয়ার লোকেশন ছিল অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ি। ব্যাস! তারপর থেকেই যেন কর্পূরের মতো উবে গেল অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। সোমবার তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। পরবর্তীতে তাঁর খোঁজ না মেলায় সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ‘লুক আউট নোটিস’ জারি করে রাজ্যের গোয়েন্দা দফতর সিআইডি। অর্থাৎ দেশের যে কোনও বন্দর থেকে পালানোর চেষ্টা করলেই আটক হবেন সুমিত। কিন্তু তারপরও কোনও হদিস নেই তাঁর। তাহলে কি কালীঘাটের বাড়ি থেকেই নিজের আপ্তসহায়ককে গায়েব করে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Sumit Roy)?

পুলিশের জালে জাহাঙ্গির, দেখা নেই সুমিতের (Sumit Roy)
সূত্রের খবর, অভিষেকের বাম হাত এবং ডান হাত ছিল এই সুমিত এবং ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান। জাহাঙ্গির ওরফে পুষ্পাকে গ্রেফতারের পর সুমিত প্রসঙ্গে একাধিক তথ্য পুলিশ জানতে পেরেছে বলে জানা গেছে। তবে অবাক বিষয় হল, উত্তরবঙ্গের ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF) জাহাঙ্গিরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে খোলা হাত অনুমতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্বের তুলনায় যথেষ্ঠ সক্রিয় পুলিশ। তাও সুমিতকে গ্রেফতার তো দুরস্থ তাঁর টিকির দেখা বা সামান্য খোঁজ অবধি পাচ্ছে না পুলিশ। পুলিশের সক্রিয়তা থেকে বলাই বাহুল্য, সুমিত যদি পালিয়েও গিয়ে থাকে তাহলে তাঁকে কেন গ্রেফতার করতে পারছে না পুলিশ?

সুমিতের ফ্যান ফলোয়ার (Sumit Roy)
যে সুমিতের খোঁজে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি তাঁর আধিপত্য ছিল বিস্তর। তাঁকে খুশি করতে তাবড় তাবড় নেতা মন্ত্রীকে মাথা নোয়াতে হত। এই সুমিত রায় ঠিক করতেন তাঁর ‘বস’ অভিষেকের কাছে কে যাবেন আর কে যাবেন না। তাঁর ‘বস’- এর কানে কোন খবরটা যাবে। এছাড়া তাঁকে খুশি করতে তৃণমূলের একটা গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়াতে ফ্যান ক্লাব খুলেও বসেছিলেন। সাংসদ থেকে শুরু করে বিধায়করাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতেন সুমিতেরই দেখা পাওয়ার জন্য। কারণ উনিই তো ছিলেন অভিষেকের দুয়াররক্ষক। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর পরই মুখ খুলেছেন কুণাল ঘোষ থেকে শুরু করে একাধিক নেতৃত্ব।

সুমিতকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ (Sumit Roy)
শুধু সুমিত রায় নয় তাঁর ও তাঁর পরিবারের প্রভাব-প্রতিপত্তি নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক হওয়ার সুবাদে এলাকায় কার্যত অঘোষিত ক্ষমতার কেন্দ্র হয়ে উঠেছিলেন সুমিত। অভিযোগ, তাঁর বাড়ির সামনে সাধারণ মানুষের গাড়ি দাঁড় করানোরও সাহস ছিল না কারও। স্থানীয়দের আরও দাবি, এলাকার একটি ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে সমাজসেবার আড়ালে দুর্গাপুজোর বিশাল আয়োজন, সর্বত্রই ছিল সুমিতের প্রভাব। একইসঙ্গে উঠেছে চাঁদাবাজির অভিযোগও। অভিযোগ, সদস্যপিছু নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা আদায়ের জন্য সাধারণ মানুষকে চাপ দেওয়া হতো, আর আপত্তি জানালেই দেখানো হতো ভয়ভীতি। তৃণমূল নেতা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগে ভিত্তিতে বলাই চলে অভিষেকের বাল্যবন্ধু অভিষেকের পাওয়ার হয়ে উঠেছিলেন বেতাজ বাদশা।

সুমিতের খোঁজে তল্লাশি কালীঘাটে (Sumit Roy)
জমি জালিয়াতি ও কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে অভিযুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়ের খোঁজে শনিবার কাকভোরে কালীঘাটে অভিযান চালায় শালবনী থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে দাবি, সুমিতের মোবাইলের শেষ টাওয়ার লোকেশন পাওয়া গিয়েছিল অভিষেকের বাড়িতেই। সেই সূত্র ধরেই রাত প্রায় ৩টে নাগাদ পটুয়াপাড়ায় পৌঁছয় তদন্তকারী দল। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও কোনও সাড়া না মেলায় বাড়ির বাইরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ। গোটা বাড়ি তল্লাশি চালানো হলেও সুমিতের সন্ধান মেলেনি। সকাল ৮টার কিছু পরে পুলিশ সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। তারপর থেকেই সুমিত রায়কে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। তবে একটা খটকা থেকেই যাচ্ছে, অভিষেকের বাড়িতে শেষ লোকেশন টাওয়ার থাকলেও তাঁর কোনও হদিস কেন পেলো না পুলিশ? তাহলে কি ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে নিজের বন্ধু তথা অপ্তসহায়ককে গায়েব করলেন সুমিতের ‘বস’?



