Calcutta High court
Bengal Liberty : তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে দলের বিপুল অঙ্কের অর্থ থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ হওয়ার মামলায় স্বস্তি পেল না কালীঘাট শিবির। দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করে কলকাতা হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত মামলার তালিকা অনুযায়ীই শুনানি হবে (Calcutta High court)। একই সঙ্গে রাজ্যের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতের কাছে বৃহস্পতিবার থেকে মামলার শুনানি শুরুর আবেদন জানিয়েছেন। ফলে তৃণমূলের আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ঘিরে আইনি লড়াই আরও তাৎপর্যপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে (Calcutta High court)।

দ্রুত শুনানিতে রাজি নয় আদালত (Calcutta High court)
তৃণমূলে ভাঙনের পর দলের তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই শিবিরের টানাপড়েন ক্রমশ তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্রুত শুনানির আবেদন করেন কালীঘাট শিবিরের আইনজীবী কিশোর দত্ত। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে তিনি জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি তালিকাভুক্ত করার আর্জি জানান। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করে দেয়। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মামলার নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ীই শুনানি হবে, কোনও মামলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে আনা সম্ভব নয়। এদিন রাজ্য সরকারের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতকে জানান, সোমবারই মামলার নথি তাঁর হাতে এসেছে। সেই কারণে প্রস্তুতির জন্য কিছুটা সময় চেয়ে বৃহস্পতিবার থেকে শুনানি শুরুর আবেদন জানান তিনি।

৪৪০ কোটি টাকার তিনটি অ্যাকাউন্ট ঘিরে সংঘাত (Calcutta High court)
তৃণমূলে ভাঙনের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেছে। এই মামলায় তাদের হয়ে আইনি লড়াইয়ের জন্য সিনিয়র আইনজীবী কে পরমেশ্বরকে নিয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কথা উল্লেখ করে প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস প্রথমে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে দলের অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান। পরে ঋতব্রত শিবিরও পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পদক্ষেপ করলে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে তিনটি অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার লেনদেন আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।এরপরই ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট শিবির। ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক লড়াইয়ের পাশাপাশি দলের বিপুল অঙ্কের তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আইনি সংঘাত এখন আদালতের বিচারাধীন।



