CM Suvendu Adhikari
Bengal Liberty : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় বুধবার ডিবিটি পদ্ধতিতে ১ কোটি ৩৪ লক্ষেরও বেশি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অনুদানের টাকা পাঠানো শুরু হল (CM Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আবেদনপত্র যাচাইয়ের পর ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে, কারণ তাঁরা প্রকল্পের নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে পারেননি। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে এই কর্মসূচির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, সরকারি অর্থ শুধুমাত্র প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তাদের কাছেই পৌঁছবে (CM Suvendu Adhikari)।

১.৩৪ কোটির বেশি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা (CM Suvendu Adhikari)
বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রথম দফার অনুদান বিতরণের সূচনা হয়। ডিবিটি পদ্ধতিতে প্রায় ১ কোটি ৩৪ লক্ষেরও বেশি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, বুধবারের মধ্যেই সমস্ত যোগ্য আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে এই অর্থ পৌঁছে যাবে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আবেদনপত্র যাচাইয়ের পর ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে। তাঁর কথায়, যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ না করায় ওই আবেদনকারীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাননি। তিনি বলেন, সরকারি অর্থের অপব্যবহার রোধ করতেই কঠোরভাবে যাচাই করা হয়েছে এবং কোনও অযোগ্য ব্যক্তি যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা না পান, তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

‘সরকারের টাকা, অপব্যবহার হতে দেব না’, সমালোচনার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari)
অন্নপূর্ণা যোজনার বরাদ্দ এবং ১২ পাতার আবেদনপত্র নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনারও জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রকল্পের টাকা কোনও রাজনৈতিক দল, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অর্থ নয়, এটি সরকারি তহবিলের অর্থ। তাই যোগ্যদের হাতে সেই অর্থ পৌঁছনো নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, যাচাই প্রক্রিয়ায় আগের তালিকায় থাকা বহু পুরুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মূল আদিবাসী সম্প্রদায়ের মহিলা এবং পাহাড় এলাকার বহু উপভোক্তাও এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কোনও অ-ভারতীয় নাগরিক এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। তবে সিএএ এবং এসআইআর ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলেও তিনি জানান।

আবেদন প্রক্রিয়া চলবে আরও কয়েক মাস (CM Suvendu Adhikari)
১২ পাতার আবেদনপত্র নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ফর্মটি যতটা দীর্ঘ বলে মনে হয়েছে, বাস্তবে তার অনেক অংশে আলাদা করে কিছু লেখার প্রয়োজন ছিল না। তাঁর দাবি, এই একবার তথ্য জমা দিলেই ভবিষ্যতে রাজ্য ও কেন্দ্রের একাধিক সরকারি প্রকল্পে আবেদনকারীদের আলাদা করে নতুন ফর্ম পূরণ করতে হবে না। তিনি আরও জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও কয়েক মাস চালু থাকবে, যাতে কোনও যোগ্য ব্যক্তি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান সচিব মৌমিতা গোদারিয়া-সহ একাধিক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক। আবেদনপত্র যাচাই থেকে শুরু করে উপভোক্তাদের তালিকা প্রস্তুতের কাজে তাঁদের ভূমিকার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে প্রশাসনের আধিকারিকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।



