mamata ritbrata
Bengal Liberty:
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর নিজেদেরই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করলেন বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) । বৃহস্পতিবার কমিশনের দফতর থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, “আমরাই আসল তৃণমূল। তাই আলাদা করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট দাবি করার কোনও প্রশ্নই নেই। দলের প্রতীক, তহবিল এবং সমস্ত সম্পদের উপর অধিকার আমাদেরই।”

আমরাই প্রকৃত তৃণমূল
ঋতব্রতের দাবি, বিদ্রোহী শিবির কোনও নতুন রাজনৈতিক দল নয়। তাই আলাদা করে দলীয় প্রতীক বা তহবিল চাওয়ার বিষয়ও নেই। তাঁর কথায়, “কোনও বিতর্কের প্রশ্নই নেই। দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে। প্রাক্তন মন্ত্রীরা আমাদের সঙ্গে আছেন। কাউন্সিলর এবং জেলা পরিষদের সদস্যদের বড় অংশও আমাদের সঙ্গে।” তাঁর দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধি তাঁদের পাশে থাকায় প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের স্বীকৃতি এবং দলীয় তহবিলের অধিকার তাঁদেরই প্রাপ্য।

প্রসঙ্গত, গত ২২ জুন বিদ্রোহী শিবির তাদের সাংগঠনিক নেতৃত্বের তালিকা প্রকাশ করে। সেই সময় থেকেই তারা নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি জানিয়ে আসছে। ঋতব্রতের বক্তব্য, দলের অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি ও সাংগঠনিক নেতৃত্ব তাঁদের পাশে থাকায় ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক এবং দলীয় তহবিলের উপর একমাত্র অধিকার তাঁদেরই।
তবে এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন। যদি ঋতব্রতদের দাবি অনুযায়ী তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস হন এবং প্রতীক বা তহবিল নিয়ে কোনও বিতর্ক না থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন পড়ল কেন? কমিশনের কাছে তাঁরা ঠিক কী দাবি জানিয়েছেন, সেই বিষয়েও ঋতব্রত স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
বৈঠক শেষে ঋতব্রত বলেন, “কমিশন আমাদের বক্তব্য শুনেছে। আমাদের দাবিদাওয়া খতিয়ে দেখে দ্রুত যোগাযোগ করবে বলে জানিয়েছে।” তবে সেই ‘দাবিদাওয়া’ ঠিক কী, তা প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করেননি তিনি। একদিকে তিনি বলছেন, আলাদা কোনও দাবির প্রশ্ন নেই; অন্যদিকে কমিশন তাঁদের দাবিদাওয়া বিবেচনা করছে বলেও জানাচ্ছেন। এই দুই বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা, বিদ্রোহী শিবিরের মূল লক্ষ্য ছিল দলীয় প্রতীক, দলীয় স্বীকৃতি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে দেওয়ার দাবি নির্বাচন কমিশনের সামনে তুলে ধরা। এখন কমিশন এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।


