Om Birla
Bengal Liberty : পশ্চিমবঙ্গের বিধায়কদের সংসদীয় পাঠ পড়াতে কলকাতায় এসেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)। পাঠ শুরু করার আগেই কর্মসূচি থেকে ওয়াক আউট করলেন কালীঘাট তৃনমূলের অন্যতম মুখ তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। অথচ এই কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভুরি ভুরি প্রশংসা করলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মসূচির শুরুতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অবধি থাকলেও স্পিকার বক্তব্য রাখতে ওঠা মাত্রই কর্মসূচিস্থল ত্যাগ করেন কুণাল। কারণ হিসাবে বলেন, বিধানসভায় তাঁকে বলতে দেওয়া হয়নি, ‘ব্যক্তিগত কারণেই ওয়াক আউট করলাম’! কালীঘাট তৃণমূলের মুখ ওয়াক আউট করেছে মানেই ঋতব্রত এই কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানাবে এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, এই কর্মসূচি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। নবীন বিধায়কদের সংসদীয় শিষ্টাচার, আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পর্কে আরও দক্ষ ও সচেতন করে তুলতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তিনি। পাশপাশি কালীঘাট তৃণমূলের মধ্যে শিষ্টাচার বোধের অভাব আছে, বুঝিয়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা (Om Birla)।

কুণালের বক্তব্য (Om Birla)
কর্মসূচির সূচনা পর্বে উপস্থিত ছিলেন কুণাল ঘোষ। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন পর্ব শেষ হওয়া মাত্র কর্মসুচিস্থল থেকে বেরিয়ে যান তিনি। তাঁর বক্তব্য, স্পিকারকে ব্যক্তিগত ভাবে সম্মান করেন তিনি। তবে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়ায় খুশি নন তিনি। এছাড়া তিনি আরও বলেন, “এই কর্মসূচির অর্ধেক জিনিস আমার জানা। বাকি কিছু জানার থাকলে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বা বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আছেন। আমার এখানে থাকার দরকার নেই। ব্যক্তিগত ভাবে আমি নিজেই বেরিয়ে এসেছি কর্মসূচি থেকে।” ক্ষোভ প্রকাশ করেন কুণাল। অর্থাৎ স্বাভাবিক একটা কর্মসূচিকেও রাজনৈতিক রং লাগালেন কুণাল ঘোষ! সব জায়গায় হাইলাইট হওয়ায় তাঁর এক মাত্র টার্গেট বলে মনে করছেন অন্যান্য বিধায়করা।

ওম বিড়লার পাঠশালা (Om Birla)
নবীন বিধায়কদের সংসদীয় কার্যপ্রণালী সম্পর্কে দক্ষ করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে লোকসভা সচিবালয়। সেই লক্ষ্যেই বৃহস্পতিবার কলকাতায় শুরু হয়েছে ২ দিনের বিশেষ ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি। এই প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিতেই শহরে এসেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভবনে। এবারের বিধানসভায় প্রথমবার নির্বাচিত বিধায়কের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায়, সংসদীয় রীতিনীতি, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, বিধানসভার কার্যক্রম এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সম্পর্কে তাঁদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
বৃহস্পতিবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু, কেন্দ্রীয় সংসদ ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং এবং বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভার স্পিকার ও সংসদীয় বিশেষজ্ঞরাও এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। দুই দিনের এই ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির সমাপ্তি হবে শুক্রবার। সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি।



