PM Modi Indonesia
Bengal Liberty
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল(PM Modi Indonesia) ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। ইন্দোনেশিয়ার পর তাঁর পরবর্তী গন্তব্য অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। তবে এই দুই দেশে যাওয়ার আগেই ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ব্রহ্মস’ চুক্তিতে অবশেষে সিলমোহর পড়ল।


এই চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ইন্দোনেশিয়াকে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের অতিরিক্ত ইউনিট সরবরাহ করবে। এর ফলে ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে ভারতের কাছ থেকে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া।
ব্রহ্মস চুক্তির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে সে দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে ভূষিত করেছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তো।
দুই রাষ্ট্রপ্রধানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক(PM Modi Indonesia)
মঙ্গলবার জাকার্তায় ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে একাধিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়াকে ‘ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন’ বা ‘ইভিএম’ (EVM) তৈরিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে ভারত। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে আরও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরবে। মঙ্গলবার ছিল নরেন্দ্র মোদির ইন্দোনেশিয়া সফরের দ্বিতীয় দিন। এদিন ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতিতে অসামান্য ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ মোদিকে সে দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘বিনতাং আদিপূর্ণা’ প্রদান করা হয়।

সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল(PM Modi Indonesia)
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের পক্ষ থেকে একটি অত্যন্ত জরুরি ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারত ইন্দোনেশিয়াকে সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ‘ব্রহ্মস’-এর অতিরিক্ত ব্যাটারি সরবরাহ করবে, যা ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বহুগুণ শক্তিশালী করে তুলবে।

বিশ্বমঞ্চে ভারতের জয়জয়কার(PM Modi Indonesia)
বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে ভারতের অবস্থান যে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, এই সফর তারই প্রমাণ। আজ ভারত আন্তর্জাতিক স্তরে আর নিষ্ক্রিয় দর্শক নয়, বরং যেকোনো পরিস্থিতির উপযুক্ত জবাব দিতে সক্ষম। প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান ভারতের এই নতুন ও কঠোর নীতি ইতিমধ্যেই টের পেয়েছে।
যেখানে পূর্ববর্তী কেন্দ্রীয় সরকারগুলোর আমলে ভারতকে অনেক ক্ষেত্রেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য পশ্চিমা দেশের ওপর নির্ভর করতে হতো, সেখানে ২০১৪ সালের পর ভারতের এই পররাষ্ট্রনীতিতে এক আমূল পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। আর এই যুগান্তকারী পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের বিচক্ষণ কূটনীতি ও দূরদর্শী চাল। আগামী দিনে মোদি সরকারের নেতৃত্বে ভারত বিশ্বমঞ্চে আর কী কী নতুন কৃতিত্ব স্থাপন করে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে ভারতসহ সমগ্র বিশ্বের।

