Golden Boot Race 2026
Bengal Liberty
ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে থেকেই সমর্থকদের(Golden Boot Race 2026 ) মধ্যে তুমুল উন্মাদনা লক্ষ করা গেছে। কার হাতে উঠবে স্বপ্নের ট্রফি, আর কার হবে স্বপ্নভঙ্গ? লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো নাকি কিলিয়ান এমবাপে—মহাতারকাদের এই মেগা লড়াই দেখার জন্য ফুটবলবিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই কোন দল বিশ্বকাপ জিতবে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল তো রয়েছেই; তবে সবথেকে বেশি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে চলতি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের শিরোপা কে অর্জন করবেন, তা নিয়ে। কোন খেলোয়াড় জিতে নেবেন এবারের সোনার জুতো?


বিশ্বকাপে দলগুলির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পাশাপাশি জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের জমজমাট রেস। মেসি থেকে এমবাপে কিংবা দেম্বেলে—কেউই কারও চেয়ে পিছিয়ে নেই। যোগ্য জবাব দিচ্ছেন হ্যারি কেন কিংবা বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করা নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। চলুন ঝটপট দেখে নেওয়া যাক, সোনার বুটের তালিকায় কে কোন স্থানে রয়েছেন।
ফ্রান্সের ত্রাতা কিলিয়ান এমবাপে(Golden Boot Race 2026)
বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে ফ্রান্স দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিযোগিতার এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ গোলদাতা কিলিয়ান এমবাপে। সেনেগাল ম্যাচ হোক কিংবা ইরাক, প্যারাগুয়ে বা মরক্কো—প্রত্যেকটি ম্যাচে নিজের সেরাটা উজার করে দিয়েছেন তিনি। মরক্কো ম্যাচে পেনাল্টি মিস করলেও, পরে অসাধারণ গোল করে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন ‘ডোনাটেলো’। চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এমবাপে সর্বশেষ গোলটি করেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিরুদ্ধে। ৮টি গোলের পাশাপাশি ৩টি অ্যাসিস্টও রয়েছে তাঁর। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ২০ ম্যাচে ২০টি গোল ও ৫টি অ্যাসিস্ট করে এক অভাবনীয় রেকর্ড গড়েছেন এমবাপে।
একাই একশো লিওনেল মেসি(Golden Boot Race 2026)
আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এই মুহূর্তে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। আর্জেন্টিনা অধিনায়কও ইতিমধ্যে ৮টি গোল করে ফেলেছেন। অর্থাৎ, গোল্ডেন বুটের জন্য লড়াইটা চলছে একেবারে সেয়ানে-সেয়ানে। তবে এমবাপের চেয়ে অ্যাসিস্টের সংখ্যা কম থাকায় মেসি আপাতত দ্বিতীয় স্থানে। বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও এলএম টেন (LM10)। তিনি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত মোট ২১টি গোল করেছেন। আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সেরা এই লেজেন্ড যখনই দল সংকটে পড়েছেন, তখনই ‘সংকট মোচন’ হিসেবে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

দানবীয় ফর্মে আর্লিং হালান্ড(Golden Boot Race 2026)
চলতি বিশ্বকাপে কোনো খেলোয়াড়কে নিয়ে যদি রূপকথার মতো আলোচনা হয়ে থাকে, তিনি হলেন আর্লিং হালান্ড। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে নরওয়ের প্রত্যাবর্তন যেকোনো থ্রিলার চলচ্চিত্রের গল্পকেও হার মানায়। আর সেই দলই এবার সবাইকে অবাক করে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে। সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নরওয়ের আর্লিং হালান্ড ৭টি গোল নিয়ে শক্তিশালী অবস্থানে আছেন।

অবশ্য এমবাপের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলেছেন তিনি। নরওয়ের এই স্ট্রাইকার কার্যত একার হাতে নিজের দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন। ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে বেশ ভালোভাবেই টিকে রয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে তাঁর করা জোড়া গোল সাম্বার দেশের সমর্থকেরা কোনোদিনই ভুলতে পারবেন না।
অপ্রতিরোধ্য হ্যারি কেন(Golden Boot Race 2026)
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। চলতি বিশ্বকাপে তিনিও ইতিমধ্যে ৬টি গোল করে ফেলেছেন। মজার বিষয় হলো, ২০১৮ সালের বিশ্বকাপেও কেন ৬টি গোল করে সোনার বুটের শিরোপা জিতেছিলেন। তবে এবার তিনি এখনও পর্যন্ত তালিকায় কিছুটা পিছিয়ে রয়েছেন। এ বছর অবশ্য কেনের কাছে সুযোগ থাকছে গোলসংখ্যা আরও কিছুটা বাড়িয়ে নেওয়ার। ১৯৬৬ সালের পর এবার কি সত্যিই সফল হবে ব্রিটিশদের সেই বিখ্যাত স্লোগান—’ইটস কামিং হোম’?
বিস্ময়কর ওসমানে দেম্বেলে(Golden Boot Race 2026)
ফ্রান্সের ওসমানে দেম্বেলেও সবাইকে চমকে দিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় ওপরের দিকে উঠে এসেছেন। চলতি বিশ্বকাপে তিনি ৫টি গোল করার পাশাপাশি ২টি অ্যাসিস্টও করেছেন। সব মিলিয়ে অন্তত পাঁচজন ফুটবলার এখনও গোল্ডেন বুট পাওয়ার মূল দৌড়ে রয়েছেন এবং এদের প্রত্যেকের দলই বিশ্বকাপে টিকে আছে। অতীতে কোনো বিশ্বকাপে সোনার বুটের জন্য এত টানটান লড়াই দেখা যায়নি।

অবশ্য এর অন্যতম কারণ বিশ্বকাপের দলের সংখ্যা বৃদ্ধি। দল বাড়ায় ম্যাচ বেড়েছে, যার ফলে গোলের সংখ্যাও বাড়ছে। কোনো ফুটবল বিশ্লেষক বা সমর্থক ভাবতেও পারেননি যে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে দেম্বেলেও থাকবেন। তবে নরওয়ের বিরুদ্ধে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে করা তাঁর হ্যাটট্রিকটি তাঁকে এই লড়াইয়ের চালকের আসনে এনে দাঁড় করিয়েছে। শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুটের এই মহাকাব্যিক লড়াইয়ের শেষে কে বাজিমাত করবেন, তা নিয়েই এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চলছে তুমুল চুলচেরা বিশ্লেষণ। উত্তেজনা তুঙ্গে।

