Bengal Liberty:
মুর্শিদাবাদের গোবিন্দপুরে স্কুলপড়ুয়াদের পুলকারে ট্রেনের ধাক্কার ঘটনায় ক্রমেই জোরালো হচ্ছে রেলের গাফিলতির তত্ত্ব। শুক্রবার ভোরের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে (School Van Accident)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও বেশ কয়েকজন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই ভয়াবহ পরিণতির জন্য শুরু থেকেই রেলের দিকে আঙুল তুলছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবশেষে গাফিলতির কথা পরোক্ষে মেনে নিয়ে লেভেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান এবং সুপারভাইজারকে সাসপেন্ড করল পূর্ব রেল।

রেল সূত্রের খবর, শুক্রবার সকালে মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝে যখন এই বিপর্যয় ঘটে, তখন সিগন্যালিং ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল না। পূর্ব রেলের দাবি, সিগন্যাল মেনেই লাইনে এসেছিল নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি। ফলে প্রাথমিক তদন্তে লাইনের সিগন্যাল নয়, বরং ইন্টারলকিং গেট পরিচালনায় নিযুক্ত গেটম্যানের ভূমিকাই এখন কাঠগড়ায়।
.
#WATCH | West Bengal | Congress leader and Former MP from Behrampore, Adhir Ranjan Chowdhury, visits the school van-train accident site
This morning, a vehicle carrying school students was hit by a train at a railway level crossing at Karnasuvarna in Murshidabad’s Berhampore pic.twitter.com/E3sSaW17Gt
— ANI (@ANI) July 17, 2026
রেলের উপর ভরসা অধীরের
কর্নসুবর্ণের মর্মান্তিক দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন শ্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে তিনি জানিয়েছেন, ” গেটম্যানের গাফিলতির জন্য এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্কুল পড়ুয়াদের মৃত্যু হয়েছে। আমি রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছি। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন গেটম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি সব কিছুই করা হবে, ভরসা রাখুন।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, নবদ্বীপ লাইনের আপ ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর যখন গেট তুলে দেওয়া হয়, তখন সেখানে কোনও গেটম্যান উপস্থিত ছিলেন না। গেট খোলা পেয়েই পড়ুয়া বোঝাই পুলকার এবং অন্যান্য গাড়ি লাইনে উঠে পড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ওই ট্র্যাকে চলে আসে ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি। বিপদ বুঝে তড়িঘড়ি ফের গেট ফেলা হলেও, ততক্ষণে আর বেরোনোর পথ ছিল না পুলকার ও এক সাইকেল আরোহীর। চলন্ত ট্রেন সজোরে ধাক্কা মারে তাদের।

কড়া ব্যবস্থা রেলের
এই ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে রেল কর্তৃপক্ষ। পূর্ব রেলের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাত্রী সুরক্ষার ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলা হয়। দুর্ঘটনা ঠিক কী কারণে ঘটল, ম্যানুয়ালি অপারেট করা ওই ইন্টারলকিং গেটের দায়িত্বে থাকা কর্মী তখন কোথায় ছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে হাওড়া স্টেশন থেকে এডিআরএম-এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। পাশাপাশি, আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য রেলের একটি বিশেষ মেডিকেল টিমকেও পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত। হাসপাতালে আহত পড়ুয়াদের দেখতে গিয়ে বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র বলেন, ‘‘এতগুলো শিশুর প্রাণ চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, রেলের তা কঠোরভাবে তদন্ত করে দেখা উচিত।’’ ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকা জুড়ে। গ্রামবাসীদের ক্ষোভে পূর্ব রেলওয়ের তরফ থেকে দুর্ঘটনায় ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হলেও, গাফিলতির বলি হওয়া তিন পড়ুয়ার মৃত্যুতে গোটা মুর্শিদাবাদ জুড়েই এখন শোক ও ক্ষোভের আবহ।

