West Bengal TMC
Bengal Liberty : তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে ১৬৪ কোটি টাকার হিসাবে গরমিল! তৃণমূল কংগ্রেসের আর্থিক লেনদেন ঘিরে তদন্ত আরও জোরদার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (West Bengal TMC)। দলের মূল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ১৬৪ কোটি টাকার লেনদেনের বিস্তারিত হিসাব চেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ককে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের সাতটি অ্যাকাউন্টের মধ্যে তিনটি ফ্রিজ করা হয়েছে। তদন্তে কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের সূত্র মিলেছে বলে দাবি ইডির। সেই সূত্র ধরেই এবার দলের মূল অ্যাকাউন্টের সমস্ত আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে (West Bengal TMC)।

মূল অ্যাকাউন্টে বাড়ল নজরদারি (West Bengal TMC)
কয়েকদিন আগেই দলের অন্দরের টানাপোড়েনের মধ্যে নিজেকে তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ পরিচয় দিয়ে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় চিঠি দেন অরূপ বিশ্বাস। তিনি দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে ফ্রিজ করার আবেদন জানান। চিঠিতে অরূপের দাবি ছিল, দলে ব্যাপক অস্থিরতা চলছে। বহু সাংসদ দল ছেড়েছেন। একাধিক বিধায়ক বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। ফলে দলের প্রকৃত কর্তৃত্ব কার হাতে, তা স্পষ্ট নয়। এই পরিস্থিতিতে অ্যাকাউন্ট থেকে কোনও লেনদেন না হওয়ার আবেদন জানান তিনি। পাশাপাশি তাঁর সই করা চেকের অপব্যবহারের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন। অরূপ বিশ্বাসের এই দাবিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ওই অ্যাকাউন্টে কাটমানির টাকা রয়েছে কি না, কে জানে। আমি অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে সহমত। তদন্ত হওয়া উচিত।” এরপর ঋতপন্থী ১০ জন তৃণমূল বিধায়ক বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ জানিয়ে দলীয় অ্যাকাউন্ট অবিলম্বে ফ্রিজ করার আবেদন করেন। এরপরই তদন্তে গতি আসে।

‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’-এ ১৬০ কোটি টাকার লেনদেন (West Bengal TMC)
ইডির দাবি, তদন্তে তৃণমূলের দলীয় অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, বিপুল অঙ্কের টাকা গিয়েছে ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলির অ্যাকাউন্টে। ইডি সূত্রের দাবি, তৃণমূলের দলীয় তহবিল থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল ওই সংস্থাকে। সেই অর্থ দিয়ে একটি বিমান এবং একটি অগুস্টা হেলিকপ্টার কেনা হয়। অভিযোগ, পরে সেই বিমান ও হেলিকপ্টারই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের বিভিন্ন নেতা-নেত্রীর ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেওয়া হত। অর্থাৎ, দলীয় তহবিলের টাকায় কেনা উড়ান পরিষেবাই আবার তৃণমূলের কাছ থেকে ভাড়া বাবদ অর্থ নিত।

এই আর্থিক লেনদেনের মধ্যে বড়সড় অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সন্দেহ ইডির। তদন্তকারীদের দাবি, মূল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ১৬৪ কোটি টাকার হিসাবের সঙ্গে নথিপত্রের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের কাছে অ্যাকাউন্টের সমস্ত লেনদেন, নথি ও আর্থিক তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন পুরো আর্থিক লেনদেনের উৎস, ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন।
আরও পড়ুন :
Abhishek Banerjee: মাথার ছাদ হারাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! অবৈধ বাড়িগুলিতেও চলবে বুলডোজার?

