Humayun Kabir
Bengal Liberty
‘স্যাটাভাঙা’ মন্তব্যের জেরে হুমায়ুন কবীরের চড়কিপাক যেন কিছুতেই শেষ হচ্ছে না (Humayun Kabir)। একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে শোরগোল ফেলা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) এই বিধায়ককে এখন ‘সবক’ শেখাতে কার্যত নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাচ্ছে রেজিনগর ও শক্তিপুর থানার পুলিশ। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, অতীতে প্রকাশ্য জনসভায় নানাবিধ হুঁশিয়ারি দিলেও, এখন আইনি গেরোয় পড়ে একে একে সব থানাতেই হাজিরা দিতে হচ্ছে তাঁকে। সেই ধারাই বজায় রেখে রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ দ্বিতীয়বারের জন্য শক্তিপুর থানায় হাজিরা দিলেন হুমায়ুন কবীর।

থানায় দ্বিতীয়বার হাজির হুমায়ুন Humayun Kabir
এই ঘটনা যদিও নতুন নয়, এর আগে গত ৩ জুলাই শক্তিপুর থানার তরফে প্রথমবার তলব করে নোটিস পাঠানো হয়েছিল এই নেতাকে। তবে সেবার কৌশলে সেই হাজিরা এড়িয়ে যান হুমায়ুন। কিন্তু আইনের হাত থেকে রেহাই মেলেনি। ঠিক তার পরের দিনই রেজিনগর থানার পুলিশ তাঁকে ডেকে পাঠিয়ে দীর্ঘ চার ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেদিন থানায় ঢোকার মুখে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই হুমায়ুন দাবি করেছিলেন, “আমি গ্রেপ্তার হলে আরও ১০০-১২০ জন স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তার হবেন, তালিকা প্রস্তুত রয়েছে।” তবে তাঁর এই এজলাসি হুঙ্কারে চিঁড়ে ভেজেনি। তদন্তকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদেও হুমায়ুনের জবাবে তাঁরা বিন্দুমাত্র সন্তুষ্ট নন।
গত ১৪ জুলাই রেজিনগর থানায় ডেকে পাঠানো হয় হুমায়ুন কবীরকে। সেদিনও চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে পুলিশি জেরা। থানা থেকে বেরিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে পুলিশ বাহিনীকে ‘দলদাস’ বলে আক্রমণ শানিয়েছিলেন এজেইউপি বিধায়ক। কিন্তু তাঁর সেই ক্ষোভের রেশ কাটার আগেই একই দিনে শক্তিপুর থানা থেকে পৌঁছে যায় দ্বিতীয় নোটিস। শেষমেশ সেই আইনি নোটিসের চাপেই রবিবার সকাল সকাল মাথা নিচু করে শক্তিপুর থানায় পৌঁছে যেতে বাধ্য হন বিতর্কে ‘একাই একশো’ এই নেতা। রাজনৈতিক মহলের মতে, একের পর এক হুমকি-হুঁশিয়ারি দিলেও শেষ পর্যন্ত আইনের শক্তির কাছে মাথা ঝোঁকাতেই হচ্ছে হুমায়ুনকে।

