Spain
Bengal Liberty
২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সেই(Spain) স্মরণীয় মুহূর্ত কে ভুলতে পারে! টানটান উত্তেজনার ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন ও নেদারল্যান্ডস। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত নাটকীয়তায় কিংবদন্তি আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই অসাধারণ গোলের ওপর ভর করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল স্পেন।

কিন্তু সেই সোনালি অধ্যায়ের পর, লাগাতার তিনটি বিশ্বকাপে তারকাসমৃদ্ধ দল নিয়েও ব্যর্থতার লজ্জাজনক নজির গড়েছিল ‘লা রোজা’। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২-এর টানা ব্যর্থতার পর, ২০২৪ সাল থেকে জন্ম নেয় এক নতুন স্পেন। লামিনে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, মার্ক কুকুরেয়ার মতো তরুণ তুর্কিদের নিয়ে গড়ে ওঠে একদম নতুন ও তাজা এক স্কোয়াড। আর তারপরেই ধরা দেয় সাফল্য। উয়েফা ইউরো ২০২৪ জয়ের পর এবার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে লামিনে ইয়ামালরা। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক স্পেনের এবারের রোমাঞ্চকর বিশ্বকাপ সফর!
গ্রুপ পর্ব: হোঁচট খেয়েই চেনা ছন্দে ফেরা(Spain)
গ্রুপ ‘H’-এ স্পেনের সঙ্গে ছিল বিশ্বকাপের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে, কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করা সৌদি আরব ও রূপকথার মতো চমকে দেওয়া লড়াকু কেপ ভার্দে। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে সহজ জয় দিয়েই অভিযান শুরু করার কথা ছিল স্পেনের। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে সমস্ত হিসেব যে উল্টে যায়, তা আবারও প্রমাণিত হলো। ৪০ বছর বয়সী কেপ ভার্দে গোলরক্ষক ভোজিনহার অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের কাছে আটকে যায় স্পেন। গোলশূন্য ড্র দিয়ে আসর শুরু করলেও, পরের ম্যাচগুলিতে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই রাউন্ড অব ৩২-এ প্রবেশ করে স্প্যানিশরা।

রাউন্ড অব ৩২: অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে দাপুটে জয়(Spain)
গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে রাউন্ড অব ৩২-এর নকআউট ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হয় স্পেন। সেখানে প্রতিপক্ষকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের চেনা ছন্দ খুঁজে পায় তারা। এই দাপুটে জয়ের আত্মবিশ্বাস পরবর্তী ম্যাচগুলিতেও স্পেনের খেলায় স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছিল।
রাউন্ড অব ১৬: পর্তুগাল বধ, চুরমার রোনাল্ডোর স্বপ্ন!(Spain)
অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে রাজকীয় জয়ের পর শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পর্তুগালের বিরুদ্ধে বেশ কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছিল লামিনে ইয়ামালদের। তবে রক্ষণ ও আক্রমণের দুর্দান্ত ভারসাম্যে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে স্পেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ফেরান তোরেসের পাস থেকে মিকেল মেরিনোর চমৎকার গোলে জয় নিশ্চিত হয় স্পেনের, আর সেই সাথে চুরমার হয়ে যায় ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ জয়ের শেষ স্বপ্ন।

কোয়ার্টার ফাইনাল: বেলজিয়ামের বাধা পার(Spain)
পর্তুগালকে বিদায় করার পর কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয় স্পেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয়ী হয় লা রোজা। পর্তুগাল ম্যাচের মতো এই ম্যাচের নায়কও ছিলেন মেরিনো। আবারও তাঁরই শেষ মুহূর্তের গোলে ভর করে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে স্পেনের তরুণ ব্রিগেড।

সেমিফাইনাল: ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালের মঞ্চে(Spain)
বহু প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে ইউরোপীয় দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্সের মহারণ দেখতে ফুটবলপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। সবাই একটি রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের আশা করলেও, মাঠে দেখা গেল স্পেনের একক আধিপত্য। অপ্রতিরোধ্য ফুটবল খেলে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে অনায়াসে হারিয়ে ১৬ বছরের খরা কাটিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল স্পেনের এই নতুন প্রজন্ম।
বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটা এবার নিজেদের করে নিতে মরিয়া স্পেন। পারবে কি তারা আরও একবার বিশ্বজয়ী হতে? তার উত্তর পেতে আর মাত্র কিছুক্ষণের অপেক্ষা।

