Ferran Torres
Bengal Liberty
রবিবারের একতরফা ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে(Ferran Torres) আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর ফের একবার বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিল স্পেন।অতিরিক্ত সময়ে গোল করে কোটি কোটি আর্জেন্টিনা সমর্থকের মন ভেঙে ম্যাচের মূল নায়ক হয়ে উঠেছেন ফেরান তোরেস। অথচ, এই ফেরান তোরেসকেই একসময় সবচেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। দল জিতুক বা হারুক— সর্বদাই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকত তাঁর নাম। তবে সমস্ত সমালোচনাকে ভুল প্রমাণিত করে এই গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালে আর্জেন্টিনার চীনের প্রাচীর-সম গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে পরাস্ত করে স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন করলেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপজয়ী এই ফেরান তোরেসের ফুটবল-যাত্রার অন্যতম বড় অধ্যায় শুরু হয়েছিল কলকাতা থেকেই। চলুন জেনে নেওয়া যাক তাঁর সেই উত্থানের গল্প।

ফেরান তোরেসের উত্থানের কাহিনি(Ferran Torres)
২৬ বছর বয়সি তোরেস বর্তমানে খেলেন বার্সেলোনায়। তবে ফুটবলে তাঁর হাতেখড়ি হয়েছিল ভ্যালেন্সিয়ায়। ছোটবেলা থেকেই তিনি ভ্যালেন্সিয়ার অ্যাকাডেমিতে খেলেছেন এবং সেখান থেকেই দেশের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে সুযোগ পান। ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে স্পেনের জাতীয় দলে জায়গা করে নেন তিনি। সেই বিশ্বকাপ খেলতেই তিনি ভারতে এসেছিলেন। রবিবার বিশ্বকাপের মূল ফাইনালে প্রবল চাপের মধ্যেও চরম ঠান্ডা মাথায় খেলেছেন তোরেস। তবে তাঁর জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালটি কিন্তু অনুষ্ঠিত হয়েছিল কলকাতার বুকেই (যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে)।

২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনালের পুনরাবৃত্তি(Ferran Torres)
২০১০ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালেও স্পেন ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ গোলশূন্য থাকার পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে শেষ মুহূর্তের সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্পেন ও বার্সেলোনার কিংবদন্তি ফুটবলার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলে ১-০ ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল স্পেন। ঠিক ১৬ বছর পর আবার সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল এবং ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠলেন একসময় সবচেয়ে বেশি সমালোচিত এই ফুটবলার।

এমনকি এর আগে পর্তুগালের বিরুদ্ধেও তোরেসের অ্যাসিস্ট থেকেই গোল করেছিলেন মেরিনো— যে ম্যাচে চিরকালের মতো শেষ হয়ে যায় ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন। সবাই জীবনে দ্বিতীয় সুযোগ পায় না। আর যখন সেই সুযোগ আসে, তখন তাকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে সম্মান ছিনিয়ে নিতে হয়— ঠিক যেমনটা করলেন ফেরান তোরেস। ভবিষ্যৎ তাঁর জন্য কী রেখে দিয়েছে তা সময় বলবে, তবে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে নিজের নাম চিরকালের জন্য স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করে নিলেন তিনি।

