Derek O Brien
Bengal Liberty: দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের সময় পুলিশের কাজের বিরুদ্ধে ভিডিও জোগাড় করার যে উদ্যোগ তৃণমূল নিয়েছে, তাতে এবার বড় ভূমিকা নিয়েছেন দলের দুই সাংসদ—ডেরেক ও’ব্রায়েন ও সাকেত গোখেল। টুইটার বা বর্তমান এক্স (X) হ্যান্ডেলে তাঁদের করা পোস্ট ও আবেদনকে সামনে রেখেই এই প্রচার শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যে দল নিজের রাজ্যে পুলিশকে নিজেদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করে বলে বারবার অভিযোগ ওঠে, তারাই আবার অন্য রাজ্যে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রমাণ জোগাড়ের বড় বড় কথা বলছে কেন?

দিল্লির ওই প্রতিবাদে হাঙ্গামা ও আইন ভাঙার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পুলিশ বাধ্য হয়ে কড়া পদক্ষেপ করেছিল। কিন্তু সেই ঘটনাকে পুরোপুরি একপাক্ষিক ‘পুলিশি অত্যাচার’ সাজিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে তৃণমূল সাংসদরা। মূলত সাকেত গোখলের করা টুইট এবং তার সমর্থনে ডেরেক ও’ব্রায়েনের সেই পোস্ট শেয়ার করে সাধারণ মানুষের কাছে ভিডিও পাঠানোর যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তাকে স্রেফ লোক দেখানো রাজনৈতিক নাটক বলেই মনে করছেন অনেকে। সোশ্যাল মিডিয়াকে অস্ত্র করে এই প্রচারের মাধ্যমে বিষয়টিকে জাতীয় স্তরে জিইয়ে রাখতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।

সমালোচকদের মতে, নিজের রাজ্যে বিরোধী দল বা সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশের কড়া নজরদারি ও দমনপীড়ন নিয়ে ডেরেক বা সাকেতের মতো তৃণমূল নেতৃত্ব সবসময় মুখে কুলুপ এঁটে থাকে। অথচ ভিনরাজ্যে কিছু ঘটলেই সোশাল মিডিয়ায় ঝড় তুলে হঠাৎ অতি-সক্রিয় হয়ে ওঠে তারা। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের জায়গা ধরে রাখতেই এই টুইট কেন্দ্রিক ভিডিও সংগ্রহের খেলা চলছে। সব মিলিয়ে, নিজেদের ঘরের বিশৃঙ্খলা ঢাকতে ভিনরাজ্যের পুলিশকে নিয়ে তৃণমূলের এই টুইট রাজনীতি এখন মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে।

