New Penal Code in Afghanistan
Bengal Liberty, Kolkata: আফগানিস্তানে নারীদের অধিকারের পরিসর আরও সঙ্কুচিত হল (New Penal Code in Afghanistan)। নতুন দণ্ডবিধি জারি করে কার্যত গার্হস্থ্য হিংসাকে বৈধতা দিল শাসকগোষ্ঠী তালিবান (Taliban)। নিয়মে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, স্ত্রী বা সন্তানের উপর শারীরিক শাস্তি প্রয়োগ করা যাবে, যতক্ষণ না তাঁদের হাড় ভাঙছে বা শরীরে দৃশ্যমান ক্ষত তৈরি হচ্ছে। এই বিতর্কিত দণ্ডবিধিতে সম্প্রতি সিলমোহর দিয়েছেন তালিবদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা (Hibatullah Akhundzada)।

‘ক্ষত না হলে অপরাধ নয়’, প্রমাণের দায়ও নারীর (New Penal Code in Afghanistan)
নতুন দণ্ডবিধি অনুযায়ী, কোনও স্বামী জোরপূর্বক বলপ্রয়োগের ফলে স্ত্রীর হাড় ভাঙলে বা শরীরে দৃশ্যমান আঘাত তৈরি হলে তবেই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সেই ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ শাস্তি মাত্র ১৫ দিনের কারাদণ্ড। এখানেই শেষ না! অভিযোগ প্রমাণের পুরো দায়ই চাপানো হয়েছে নির্যাতিতার উপর। আদালতে গিয়ে তাঁকেই প্রমাণ করতে হবে নির্যাতনের ঘটনা। আবার আদালতে উপস্থিত হওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে স্বামী বা কোনও পুরুষ সঙ্গীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক বলেও উল্লেখ রয়েছে। বিচারকের সামনে শারীরিক ক্ষতের প্রমাণও দেখাতে হবে, তাও সম্পূর্ণ আবৃত অবস্থায়।
আরো পড়ুন:- Suryakumar Yadav captain reaction: টানা তিন শূন্য, তবু আস্থা অটুট—অভিষেকের পাশে সূর্য
একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কোনও বিবাহিত মহিলা যদি স্বামীর অনুমতি ছাড়া আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে যান, তবে তাঁকে তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
অপরাধ নয়, সামাজিক মর্যাদাই ঠিক করবে শাস্তি (New Penal Code in Afghanistan)
নতুন দণ্ডবিধির ৯ নম্বর ধারায় আফগান সমাজকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা, ধর্মীয় পণ্ডিত (উলেমা), অভিজাত (আশরাফ), মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত। এখানে একই অপরাধের শাস্তি অপরাধের গুরুত্বের উপর নির্ভর করছে না, বরং অভিযুক্তের সামাজিক অবস্থানের উপর নির্ভর করবে।
Partha Chatterjee জেলে থাকাকালীন অভিষেক – মুখ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছিলেন?
আরো বিস্তারিত জানতে লিংকে ক্লিক করে পুরো ভিডিওটি দেখুন: https://t.co/rVMZPgJGVe
বিস্তারিত পড়ুন লিংকে ক্লিক করে: https://t.co/MaF8Cdhhgk@SuvenduWB @MamataOfficial @bengalliberty @BJP4Bengal pic.twitter.com/0FaiHZY1h3— Bengal Liberty (@bengalliberty1) February 19, 2026
নিয়ম অনুযায়ী, ধর্মীয় পণ্ডিত অপরাধ করলে তাঁকে শুধু পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। অভিজাতদের ক্ষেত্রে আদালতে তলব করা হলেও শেষ পর্যন্ত সতর্কবার্তা দিয়েই মুক্তি দেওয়া হতে পারে। কিন্তু একই অপরাধে মধ্যবিত্তদের কারাদণ্ড এবং নিম্নবিত্তদের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ভাগ্যে জুটতে পারে মারধরও। নয়া দণ্ডবিধিতে গুরুতর অপরাধের জন্য অভিযুক্তদের শারীরিক ভাবে শাস্তি প্রয়োগ করার অধিকার দেওয়া হয়েছে ইসলামি ধর্মগুরুদের।

বাতিল নারী সুরক্ষা আইন, মুখ বন্ধ রাখতে নতুন নিষেধাজ্ঞা (New Penal Code in Afghanistan)
৯০ পৃষ্ঠার এই নতুন দণ্ডবিধি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০০৯ সালে চালু হওয়া নারীর বিরুদ্ধে হিংসা নির্মূল আইন, ‘এলিমিনেশন অফ ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উওমেন’ (EVAW) বাতিল করে দেওয়া হয়েছে, যা মার্কিন সমর্থিত আগের আফগান সরকারের আমলে চালু হয়েছিল। আইন ঘিরে যাতে জনসমক্ষে অসন্তোষ না ছড়ায়, তার ব্যবস্থাও আগেভাগেই করেছে তালিবান সরকার। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, এই দণ্ডবিধি নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষ নাম প্রকাশ না করার শর্তেও কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ফের ক্ষমতায় ফিরে শরিয়া আইন কার্যকর করে তালিবান। তারপর থেকেই নারীশিক্ষা, কর্মসংস্থান, পোশাকবিধি ও জনজীবনে অংশগ্রহণ, প্রায় সব ক্ষেত্রেই কঠোর বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছে। বর্তমানে মেয়েদের শিক্ষা কার্যত প্রাথমিক স্তরেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন দণ্ডবিধি নারীদের অবস্থাকে আরও অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
