Babul Supriyo AI Summit reaction
Bengal Liberty Desk, ২২ ফেব্রুয়ারি:
আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে রাজনৈতিক নাটক(Babul Supriyo AI Summit reaction), এই ভাষাতেই দিল্লির AI সামিটে যুব কংগ্রেসের খালি গায়ে বিক্ষোভের কড়া সমালোচনা করল তৃণমূল-কংগ্রেস। এই ঘটনায় সরব হলেন রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। ঘটনাটি ঘটেছে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপম-এ আয়োজিত আন্তর্জাতিক AI সামিটে, যেখানে দেশ-বিদেশের শিল্পপতি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “গণতন্ত্রে প্রতিবাদের অধিকার সবার আছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই ধরনের আচরণ দুর্বল বিচারবুদ্ধির পরিচয় দেয়। দেশের সম্মান সবার আগে।”

কী ঘটেছিল AI সামিটে? (Babul Supriyo AI Summit reaction)
গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এআই সম্মেলনের মাঝপথে গত শুক্রবার দুপুরে আচমকা কয়েকজন যুব কংগ্রেস কর্মী খালি গায়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সমঝোতা দেশের সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের ক্ষতি করবে। সূত্রের খবর অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই ছিল তাঁদের লক্ষ্য। পরবর্তীতে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে কয়েকজনকে আটক করে। তবে এই ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলেই মনে করছে তৃণমূল।
দেশীয় স্বার্থে বিরোধিতা নয়, মত তৃণমূলের (Babul Supriyo AI Summit reaction)
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে কিন্তু তা যেন দেশের মর্যাদা নষ্ট না করে, এই বার্তাই দিয়েছেন বাবুল। তাঁর কথায়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দলীয় কর্মসূচি চালানো মানে জাতীয় অগ্রাধিকারের প্রশ্নে ভুল বার্তা দেওয়া।
.
The shirtless protest by members of the Indian Youth Congress at the AI Summit reflects poor judgment. At a forum attended by international leaders and global business figures, such conduct sends the wrong message about our national priorities.
Democracy guarantees the right to…
— Babul Supriyo (@SuPriyoBabul) February 21, 2026
‘ইন্ডিয়া’ জোটে বাড়ছে দূরত্ব? (Babul Supriyo AI Summit reaction)
ঘটনাটি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র অন্দরে বাড়তে থাকা মতভেদের প্রসঙ্গে। একদিকে তৃণমূল প্রকাশ্যে কংগ্রেসের আচরণের নিন্দা করছে, অন্যদিকে সংসদে একাধিক ইস্যুতে দুই দলের অবস্থান ভিন্নমুখী।
লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লা-র বিরুদ্ধে কংগ্রেসের আনা অনাস্থা প্রস্তাবে তৃণমূলের সাংসদরা এখনও সই করেননি। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘ইন্ডিয়া’ জোটভুক্ত দলগুলির যৌথ বিবৃতি ছাড়া তৃণমূল সই করবে না। অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর অপসারণের প্রসঙ্গে তৃণমূলের উদ্যোগে কংগ্রেসের আগ্রহ না দেখানো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-র অবস্থানও এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয় বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা।
বিজেপির অবস্থান (Babul Supriyo AI Summit reaction)
বিজেপি শিবিরের দাবি, দেশের উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রাকে কেন্দ্র করে যখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তখন বিরোধীদের এ ধরনের আচরণ রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতারই প্রমাণ। উল্লেখ্য AI ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের পথে এগোতে চায় ভারত। সেই সময় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে খালি গায়ে বিক্ষোভ কি সত্যিই গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের সঠিক রূপ? নাকি তা কেবল রাজনৈতিক নাটক?
তবে এই ঘটনায় ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্দরে যে ফাটল আরও স্পষ্ট হল, তা মানছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও।
