Iran Supreme Leader killed 2026
Bengal Liberty, Kolkata:
হঠাৎ করেই বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল তেহরান(Ali Khamenei death 2026) । মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণ। ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই। শুধু তিনি নন, ওই হামলায় তাঁর কন্যা, জামাই এবং নাতনিরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে ইরানের সংবাদসংস্থার পক্ষ থেকে। ইরানের এক সংবাদপত্রের ভাষায়, “ইতিহাসের পাতায় এই অধ্যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিস্ময় ও গর্বের সঙ্গে পড়বে।” তবে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার মৃত্যুতেও সংঘাতের শেষ হয়েও হল না শেষ, ফের হুঁশিয়ারি দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পিকচার আভি বাকি হে?

অফিসে কাজ করতে করতেই মৃত্যু(Ali Khamenei death 2026)
ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, হামলার সময় খামেনেই নিজের অফিসে বসে কাজ করছিলেন। আচমকাই সেখানে বোমা আছড়ে পড়ে। হামলাটি শনিবার ভোরের দিকে হয়েছে বলে সংবাদসংস্থার বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর কন্যা, জামাই এবং নাতনির শহিদ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলাকে ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা ‘কাপুরুষোচিত’ বলে উল্লেখ করেছে।

আবেগঘন পোস্ট খমেনেইকে ঘিরে(Ali Khamenei death 2026)
একটি সংবাদ সংস্থায় খামেনেইয়ের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর আবেগঘন পোস্ট করা হয়েছে। বলা হয়েছে- মৃত্যুর আগে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বলতে হবে যে আমরা এমন এক সময়ের সাক্ষী ছিলাম, যখন ৮৬ বছর বয়সী এক মুজাহিদ একাই ইসলামের লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন, আর বিশ্বের বহু দেশ নীরব ছিল। এই বয়সেও তিনি মাথা নত করেননি, সত্যের কণ্ঠস্বর তুলেই গেছেন। ইতিহাসের পাতায় এই অধ্যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিস্ময় ও গর্বের সঙ্গে পড়বে।

৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা(Ali Khamenei death 2026)
ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড জানিয়েছে, খামেনেইয়ের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। তবে এর প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। আমেরিকা ও ইজরায়েলের বাহিনীকে লক্ষ্য করে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র হামলা’ চালানোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, যা খুব শিগগিরই শুরু হতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে। এদিকে খামেনেইয়ের মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে স্পষ্ট হয়েছে, এই ঘটনার পরেও পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি থামার কোনও লক্ষণ নেই।

হামলার দাবি আমেরিকা ইজরায়েলের(Ali Khamenei death 2026)
শনিবার রাতেই খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লেখেন, ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত ব্যক্তি খামেনেই নিহত হয়েছেন এবং তাঁর বাহিনীর হাতে যারা নিহত বা আহত হয়েছেন তাদের প্রতি ন্যায়বিচার হয়েছে।
নিহত খামেনেই। আমেরিকার আকাশে কালো মেঘ। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত?@bengalliberty @realDonaldTrump @netanyahu #bengalliberty #UnitedStates #Israel #Iran #IranWar #Khamenei #IranRevoIution2026 #WorldWar3 #IranMassacre #SupremeLeader pic.twitter.com/lMVISUDyx2
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) March 1, 2026
ইজরায়েলের দাবি ছিল, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে এবং খামেনেইয়ের সম্পূর্ণ এলাকা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই ইরানে আক্রমণ শুরু করে ইজরায়েল। পরে জানা যায়, এই হামলায় আমেরিকার সেনাও সহায়তা করছে। যৌথ বাহিনীর হামলায় তেহরানসহ ইরানের বড় শহরগুলিতে মুহুর্মুহু বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আছড়ে পড়তে থাকে। পাল্টা প্রত্যাঘাত করে ইরানের বাহিনীও, শুধু ইজরায়েল নয়, সমগ্র পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকেও নিশানা করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই ও আবু ধাবিতে বোমা পড়ার খবর পাওয়া গেছে, এমনকি খালি করা হয় বুর্জ খলিফাও। পাশাপাশি কাতার ও সৌদি আরবেও আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে ইরান। এর জেরে পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিমান চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে।

এখনই থামছে না সংঘাত(Ali Khamenei death 2026)
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরও ইরানে শান্তি ফেরাতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ সেখানে বোমাবর্ষণ চলবে, জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও সেই হুঁশিয়ারিতে সাই দিয়েছেন।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি শুধু ওই দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং গোটা পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার উপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি, একের পর এক আক্রমণ এবং আকাশপথ বন্ধ এই সংঘাতকে আরও বড় করে তোলার ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
আরও পড়ুন :
Israel Iran war: ইরানের মিসাইল হামলায় আবুধাবিতে মৃত ১, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা!
