India Russian oil purchase
Bengal Liberty , Kolkata :
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তার মাঝে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল আমেরিকা(India Russian oil purchase)। বিশ্বে অশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে সাময়িক ছাড় দিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এই ছাড় সীমিত এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্যই প্রযোজ্য বলে জানানো হয়েছে।
সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেল কেনার ছাড় India Russian oil purchase
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট জানান, ভারতকে ৩০ দিনের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তবে এই ছাড় কেবলমাত্র সেই সব তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেগুলি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সমুদ্রপথে আটকে রয়েছে। অর্থাৎ নতুন করে তেল কেনার অনুমতি নয়, বরং ইতিমধ্যে সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেলই কিনতে পারবে ভারত।
এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বেসেন্ট বলেন, ভারত আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সঙ্গী। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ছে, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। সেই চাপ কিছুটা কমাতেই এই সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, এই সীমিত ছাড়ের ফলে রাশিয়ার আর্থিকভাবে খুব বেশি লাভ হবে না।

জ্বালানি নিরাপত্তা
রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারতের উপর চাপ তৈরি করেছিল আমেরিকা। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, রাশিয়ার তেল বিক্রির অর্থ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মস্কো থেকে তেল আমদানি বাড়ানোয় ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও আরোপ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে অবশ্য তিনি দাবি করেন, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছে—এই যুক্তিতে সেই বাড়তি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়।

ভারতের অবস্থান অবশ্য স্পষ্ট। কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থই বাণিজ্যনীতির প্রধান নির্ধারক। তেল আমদানির ক্ষেত্রে একাধিক উৎস বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করা হবে এবং কোনও একটি দেশের উপর নির্ভরশীল হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।
এদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ইরান হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথ দিয়েই প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ রফতানিযোগ্য তেল পরিবহণ হয়। ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় প্রণালীর দু’ধারে বহু তেলবাহী জাহাজ ও ট্যাঙ্কার অপেক্ষা করছে। ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৪০ শতাংশ এই পথ দিয়েই আসে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেখানে ভারতের অন্তত ৩৭টি জাহাজ আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প পথ এবং উৎস খুঁজতে হচ্ছে ভারতকেও।

