India into the Final 2026
Bengal Liberty, সিদ্ধার্থ দে:
ওয়াংখেড়েতে আছড়ে পড়লো নীল সমুদ্রের গর্জন (India into the Final 2026) । টানটান উত্তেজনা, পরতে পরতে নাটক আর শেষ ওভারের রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার—সব মিলিয়ে মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম সাক্ষী থাকলো এক অতিমানবিক ক্রিকেটীয় যুদ্ধের। ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিলো ‘মেন ইন ব্লু’। আগামী ৮ মার্চ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত।
ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই পারদ চড়ছিল। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস জেতা মানেই অর্ধেক কাজ সেরে রাখা। কিন্তু ভাগ্যের লড়াইয়ে জিতে যান ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। তিনি ভারতকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান। তবে ৩৩,০০০ দর্শকের গগনভেদী চিৎকারে বোঝা যাচ্ছিল, টস হারলেও মানসিকভাবে এক কদম এগিয়েই ছিল ভারত। নীল জার্সিতে মোড়া গ্যালারি তখন শুধুই ভারতের জয়গান গাইছিল।

সঞ্জু স্যামসনের ‘স্যামসন-শো’ (India into the Final 2026)
ইডেন গার্ডেন্সের ফর্মকে যেন পকেটে পুরে মুম্বাইয়ে এসেছিলেন সঞ্জু স্যামসন। গত ম্যাচে ৯৭ রান করার পর এদিনও তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। যদিও ভাগ্যের কিছুটা সাহায্য তিনি পেয়েছেন—ব্যক্তিগত অল্প রানে তাঁর সহজ ক্যাচ ফস্কান ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। সেই জীবনদান পাওয়ার পর সঞ্জু যা করলেন, তাকে স্রেফ ধ্বংসলীলা বলা চলে।
মাত্র ৪২ বলে ৮৯ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। ৮টি চার এবং ৭টি বিশাল ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২১১.৯। সঞ্জুর ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি অন্য কোনো গ্রহের ক্রিকেটার। তাঁর এই ক্লাসিক নক-ই ভারতকে বিশাল স্কোরের ভিত গড়ে দেয়।

মিডল অর্ডারের দাপট ও অভিষেকের ব্যর্থতা (India into the Final 2026)
সঞ্জুকে যোগ্য সঙ্গ দেন শিবম দুবে। মাত্র ২৫ বলে ৪৩ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। অন্যদিকে ঈশান কিষানও ৩৯ রানের একটি কার্যকরী ইনিংস উপহার দেন। শেষবেলায় তিলক বর্মা এবং হার্দিক পান্ডিয়ার দ্রুতগতির ব্যাটিং ভারতকে ২৫২ রানের পাহাড়সম স্কোরে পৌঁছে দেয়। ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৫৩ রান।
তবে এই জয়ের মধ্যেও ওপেনার অভিষেক শর্মার ফর্ম চিন্তায় রাখল টিম ম্যানেজমেন্টকে। গোটা বিশ্বকাপে অফ ফর্মে থাকা অভিষেক এদিনও ব্যর্থ। স্পিনার উইল জ্যাকসের বলে দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে উইল জ্যাকস ও আদিল রশিদ ছাড়া আর কেউ সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেননি।

জ্যাকব বেথেলের অতিমানবিক লড়াই (India into the Final 2026)
২৫৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা ভালো হয়নি। ফিল সল্টকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন হার্দিক পান্ডিয়া। এরপর বাটলার এবং হ্যারি ব্রুকও বড় রান করতে ব্যর্থ হন। এক সময় মনে হচ্ছিল ভারত সহজেই জিতে যাবে, কিন্তু তখনই শুরু হয় জ্যাকব বেথেল ঝড়।
বেথেল এদিন যা খেললেন, তা ক্রিকেট ইতিহাসে অনেকদিন মনে রাখা হবে। মাত্র ৪৮ বলে ১০৫ রানের এক অবিশ্বাস্য শতরান করেন তিনি। ৮টি চার এবং ৭টি গগনচুম্বী ছক্কায় তিনি ভারতের হাতের বাইরে ম্যাচ নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে কোনো বাড়তি পরিশ্রম ছিল না, ছিল স্রেফ টাইমিং। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন উইল জ্যাকস (২০ বলে ৩৫)। ভারতের বোলারদের উপর রীতিমতো শাসন চালিয়ে জরুরি রান রেট ১৩ থেকে নামিয়ে আনেন তাঁরা।

অক্ষর প্যাটেল: ভারতের নতুন ‘সংকটমোচন’ (India into the Final 2026)
বোলাররা যখন খেই হারিয়ে ফেলছিলেন, অর্শদীপ ও বরুণ যখন রান দিচ্ছিলেন, তখন ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন অক্ষর প্যাটেল। ব্যাটিং বা বোলিং নয়, এদিন ফিল্ডিং দিয়ে ম্যাচ জেতান তিনি। ৪.১ ওভারে প্রায় ২৪ মিটার দৌড়ে গিয়ে তিনি যে ক্যাচটি ধরেন, তা দেখে গ্যালারিতে থাকা প্রাক্তনদের ১৯৮৩ সালের কপিল দেবের সেই ঐতিহাসিক ক্যাচের কথা মনে পড়ে যায়।
এখানেই শেষ নয়, ১৩.৬ ওভারে বাউন্ডারি লাইনে নিশ্চিত ছয় হতে যাওয়া বলকে বাজপাখির মতো লাফিয়ে তালুবন্দি করেন তিনি এবং ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার আগে বলটি শিবম দুবের হাতে ঠেলে দেন। এই অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও ক্ষিপ্রতাই ভারতকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। ফিল্ডিংয়ের জন্য ম্যান অফ দ্য ম্যাচের কোনো পুরস্কার থাকলে তা অক্ষরেরই প্রাপ্য ছিল।

গ্যালারিতে চাঁদের হাট এবং ‘ক্যাপ্টেন কুল’ (India into the Final 2026)
ম্যাচের রোমাঞ্চের পাশাপাশি গ্যালারির দৃশ্যও ছিল দেখার মতো। বিসিসিআই এবং আইসিসি-র শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অনিল কাপুর ও বরুণ ধাওয়ানের মতো বলিউড তারকারা। কিন্তু গ্যালারির সমস্ত ক্যামেরা একদিকেই স্থির হলো যখন স্ক্রিনে ভেসে উঠলো মহেন্দ্র সিং ধোনির মুখ।
স্ত্রী সাক্ষীর সঙ্গে ভারত-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল উপভোগ করতে এসেছিলেন ক্যাপ্টেন কুল। ধোনিকে স্ক্রিনে দেখা মাত্রই পুরো ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম ‘ধোনি-ধোনি’ চিৎকারে কেঁপে ওঠে। তাঁর শান্ত উপস্থিতি যেন মাঠে থাকা ভারতীয় ক্রিকেটারদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল। ধোনি সাক্ষী থাকলেন আরও একটি ঐতিহাসিক জয়ের।

স্নায়ুর লড়াইয়ে ভারতের জয় (India into the Final 2026)
শেষ ওভারে যখন ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য ৩০ রান দরকার, তখন জ্যাকব বেথেল রান আউট হয়ে গেলে ভারতের জয় নিশ্চিত হয়। বুমরাহ ও হার্দিক শেষ দিকে বোলিংয়ের রাশ শক্ত হাতে ধরেছিলেন। হার্দিক পান্ডিয়া ২ উইকেট নেন এবং বুমরাহ গুরুত্বপূর্ণ ১টি উইকেট শিকার করেন। ইংল্যান্ড ২৪৫ রানে থামলে ভারত ৭ রানের নাটকীয় জয় পায়। দুই ইনিংস মিলিয়ে প্রায় ৫০০ (৪৯৯) রানের এই ম্যাচে ভারত প্রমাণ করলো কেন তারা বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা দল।

Mamata Banerjee: এবার কি রাজ্য্যবাসীকে প্রজা বলে ভাবতে শুরু করেছে তৃণমূল?
আরো বিস্তারিত জানতে লিংকে ক্লিক করে পুরো ভিডিওটি দেখুন: https://t.co/JPW27NLnbH@bengalliberty @MamataOfficial @AITCofficial @SuvenduWB @BJP4Bengal @BJP4Bengal #WestBengal #WestbengalElection2026 #BJP pic.twitter.com/4Yi9jfBnaP
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) March 5, 2026
মিশন আহমেদাবাদ: সামনে এবার কিউই শক্তি (India into the Final 2026)
এই জয়ের ফলে চতুর্থবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রবেশ করলো ভারত (২০০৭, ২০১২, ২০২৫ এবং ২০২৬)। সামনে এবার নিউজিল্যান্ড। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ১ লক্ষেরও বেশি দর্শকের সামনে ভারত কি পারবে গতবারের সাফল্য ধরে রাখতে? নাকি নিউজিল্যান্ড ছিনিয়ে নেবে শিরোপা? উত্তর মিলবে আগামী রবিবার, ৮ মার্চ।
পুরো ভারত এখন আহমেদাবাদের দিকে তাকিয়ে। লক্ষ্য একটাই—বিশ্বজয়!
আরও পড়ুন :
India Vs England semi final 2: ওয়াংখেড়ে-তে মহারণ সেমিতে মুখোমুখি ভারত বনাম ইংল্যান্ড
