West Bengal election 2026
Bengal Liberty, কলকাতা :
পশ্চিমবঙ্গের হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যেই দুই যুযুধান পক্ষ মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত (West Bengal Assembly Election)। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নতুন ফরমান ঘিরে তুমুল রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। ভোট চুরি আটকাতে কড়া ব্যবস্থা নিতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
পশ্চিমবঙ্গে ভোট মানেই দেদার ছাপ্পা আর ভোট লুট—এমন অভিযোগ বহুদিনের। দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে একই ফর্মুলা প্রয়োগ করে ক্ষমতায় ছিল সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াকু রাজনীতির সামনে হার মানতে হয় বামফ্রন্টকে। কিন্তু ২০১১-র পরেও পরিস্থিতির খুব একটা বদল হয়নি বলে অভিযোগ বিরোধীদের। বরং অনেকের মতে তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এক চালেই বেসামাল :
২০১৬ ও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি লাগাতার এই অভিযোগ সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই ফুল ওয়েবকাস্টিং করতে হবে। সব ভোটগ্রহণ বুথে বসাতে হবে ওয়েবক্যাম এবং চলবে লাইভ সম্প্রচার। নির্দেশ অমান্য হলে বা কোনও বুথে অনিয়ম ধরা পড়লে সেই বুথের পুরো ভোটই বাতিল করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

একাধিকবার অভিযোগ:
রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির দাবি, “এই সরকার শুধু ভোট লুট ও ভোট চুরি করেই ক্ষমতায় টিকে আছে। সঠিকভাবে নির্বাচন হলে তৃণমূল ৫০টি আসনও পার করতে পারবে না। জয় আমাদের নিশ্চিত।”
বহু পোলিং বুথে এর আগে অভিযোগ উঠেছে যে সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে লাল টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে নজরদারি কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এবং অবাধে চলতে থাকে ভোট লুটের রাজনীতি। কমিশনের এই নির্দেশে স্বাভাবিকভাবেই চাপে রাজ্য সরকার। অন্যদিকে বিরোধী দল সিপিএম, কংগ্রেস, আইএসএফ সহ অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তি কমিশনের এই কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
অন্যদিকে রাজ্য সরকারের অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নাকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রভাবেই কাজ করছেন। এখন দেখার, কমিশনের এই নতুন কড়া ব্যবস্থার ফলে নির্বাচনের ময়দানে কতটা প্রভাব পড়ে। ভোটের দামামা প্রায় বেজে গিয়েছে। আর কয়েকদিনের মধ্যেই ঘোষণা হবে কত দফায় সম্পন্ন হবে রাজ্যের ভোট প্রক্রিয়া।

