MIM alliance break
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে গড়ে ওঠা হুমায়ুন কবীরের দল AJUP এবং আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল MIM-এর মধ্যে জোট শেষ পর্যন্ত ভেঙে গেল। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই জোটকে ঘিরে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা আচমকাই থেমে গেল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। AIMIM নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ এবার বিধানসভা নির্বাচনে একাই লড়ার ঘোষণা করেছে।

কেন ভাঙল জোট? MIM alliance break
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে হুমায়ুন কবীরের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। যেখানে তাঁকে বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কথা বলতে শোনা গেছে। এই ভিডিও ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার জন্য এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র। তবে কবির এই ভিডিওটিকে ‘এআই-জেনারেটেড’ বা কৃত্রিমভাবে তৈরি বলে দাবি করেছেন এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে MIM
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে MIM জানায়, “হুমায়ুন কবীরের তথাকথিত ফাঁস হওয়া তথ্যগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে যে বাংলার মুসলিমরা কতটা অসহায়। মুসলিমদের সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এমন কোনো মন্তব্যের সঙ্গে MM আপস করতে পারে না। আজ থেকেই আমরা কবিরের দলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করছি। আগামী দিনে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট না করে MIM স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।”
হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য
তবে হুমায়ুন কবীর তাঁর ভাইরাল ভিডিওটিকে ভুয়ো বলে দাবি করেছেন। তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, যদি ওই ভিডিওর সত্যতা প্রমাণ হয়, তবে যেন তাকে গ্রেফতার করা হয়। মূলত ওই ভিডিওতে তাঁর করা কিছু মন্তব্য নিযে বিতর্ক তৈরী হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। তাঁর এই বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে AJUP ও MIM-এর জোট ভেঙে যায়।
ওয়াইসির সিদ্ধান্ত মেনে নেন হুমায়ুন কবীর
MIM নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে মেনে নিলেন হুমায়ুন কবীর। তিনি জানান ওয়াইসি একজন সিনিয়ন রাজনীতিবিদ এবং তাঁর প্রতি সম্মান অটুট থাকবে। তবে জোট ভাঙলেও লক্ষ্য থেকে সরছেন না হুমায়ুন কবীর। তিনি জানান, মানুষের কাছে গিয়েই তিনি তৃণমূলের এই রাজনৈতিক চক্রান্তের জবাব দেবেন। তিনি জোট ভাঙার পর স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে, “আমার আর কোন প্রার্থী নেই। রাজ্যে ওই ১৮২টি আসনেই লড়ব। আগে ১৪টি আসন MIM-কে ছাড়া হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের প্রার্থীদের নিয়েই ময়দানে নামব। নতুন করে ওই আসনে আর আমরা প্রার্থী দিতে পারব না। আর লোক নেই। যা ঘোষণার হয়ে গিয়েছে।” বলেন, এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্ঠা করবেন তিনি।
নির্বাচনের আগে ছোট দলগুলির মধ্যে জোট গঠন এবং আবার ভেঙে যাওয়া নতুন কিছু নয়। তবে এই ঘটনার ফলে কিছু আসনে ভোটের সমীকরণ বদলাতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
