Raiganj political rally
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
দিল্লিতে দোস্তি বাংলায় কুস্তি! বিধানসভা ভোটের প্রচারে উত্তর দিনাজপুর জেলার রাজগঞ্জের সভা থেকে ইন্ডি জোটের শরিক ও রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল Raiganj political rally কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমন করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

সারদা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া রাহুলের Raiganj political rally
রায়গঞ্জের জনসভা থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী একাধিক বিষয়ে শরিক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে বিভন্ন ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি সারদা ও রোজভ্যালি চিটফান্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সারদা ও রোজভ্যালির মতো চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে দুর্নীতি হয়েছে। তিনি বলেন সারদা চিটফান্ডের নামে ১৭ লক্ষ সাধারণ মানুষের টাকা তৃণমূল সরকার লুট করেছে। তাদের ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা এখনো এই সরকার ফিরিয়ে দেয়নি।
রোজভ্যালি চিটফান্ডের উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোজভ্যালি চিটফাণ্ডের নামে এই দুর্নীতিপরায়ণ সরকার সাধারণ খেটে খাওয়া ৩১ লক্ষ মানুষের টাকা লুট করেছে। ৬ হাজর কোটি টাকা এখনো সাধারণ মানুষকে ফিরেয়ে দেয়নি। উল্লেখ্য, সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল কাশ্মীরের সোনমার্গ থেকে গ্রেফতার হন। দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর প্রেসিডেন্সি জেলে থাকার পর গত ৮ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানে মমতা দায়ী
তিনি বলেন, বাংলায় বিজেপির উত্থানের জন্য অনেকটাই দায়ী রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রান্ত নীতি। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভুল নীতি ও দুর্নীতির কারণেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি শক্তি বাড়াতে পেরেছে। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতি ও শাসনের ব্যর্থতার জন্যই বিজেপি বাংলায় নিজেদের জায়গা তৈরি করতে পেরেছে। বিজেপির উত্থানের জন্য তিনিই দায়ী।”
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসংস্থান ইস্যু
রাহুল গান্ধী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়নের অভাবের অভিযোগও তোলেন। তাঁর দাবি, বহু শিল্প ও কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে গেছে। তিনি দাবি করেন, ২০২১ সালে মুখ্যমন্ত্রী পাঁচ লক্ষ যুবককে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে বহু যুবক এখনও কাজের সন্ধানে ঘুরছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রায় ৮৪ লক্ষ মানুষ বেকার ভাতার জন্য আবেদন করতে বাধ্য হয়েছেন, যা রাজ্যের কর্মসংস্থানের সংকটকে স্পষ্ট করে।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন
সভা থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তৃণমূল সরকারকে কড়া আক্রমণ করেন তিনি। বিশেষ করে নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব ঘটনা প্রশাসনের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এই প্রসঙ্গে তিনি আরজিকর-এর কথাও উল্লেখ করেন। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা দেখায় যে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের “গুন্ডাদের অবাধ দাপট” চলছে এবং আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।
রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ
রাহুল গান্ধী আরও দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাও বেড়েছে। তিনি কংগ্রেস নেতা তপন কুণ্ডুর হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, বিরোধী দলের কর্মীরা নিরাপদ নন। প্রসঙ্গত কেন্দ্রে নিজেদের ইণ্ডি জোটের শরিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রায়গঞ্জে রাহুল গান্ধীর হেলিপ্যাড ভাঙার অভিযোগ ওঠে।
রায়গঞ্জের এই সভা থেকে কংগ্রেস স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা রাজ্যে এককভাবে লড়াইয়ে নামছে। জাতীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে একই জোটে থাকলেও রাজ্যে তৃণমূলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই তিক্ত। এই পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করে বিজেপি বলছে, “দিল্লিতে দোস্তি, রাজ্যে কুস্তি”— এটাই ইন্ডি জোটের বাস্তব চিত্র। বিজেপির দাবি, জোটের ভিতরে বিশ্বাসের অভাবই এসব ঘটনার কারণ। ফলে নির্বাচনের মুখে ইন্ডি জোটের শরিক দুই দলের এই টানাপোড়েন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রায়গঞ্জের সভা থেকেই কংগ্রেস আক্রমণাত্মক প্রচারের ইঙ্গিত দিল। তাদের মতে, বাংলার রাজনীতিতে নিজেদের জায়গা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে কংগ্রেস।
