Nandigram project
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
ছাব্বিশের ভোটের পূর্বে জমজমাট রাজনৈতিক প্রচার। আজ পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে জনসভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী Nandigram project। নন্দীগ্রামের শ্রীপুর-ভেকুটিয়া এলাকায় ‘বিজয় সংকল্প সভাতে’ বক্তব্য রাখার সময় এলাকার রেল ও জল প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের রাজনীতির অভিযোগ তোলেন বিরোধী দলনেতা।

রেল প্রকল্প নিয়ে অভিযোগ Nandigram project
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নন্দীগ্রাম ও সংলগ্ন এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রেল সংযোগের দাবি জানিয়ে আসছেন। তার দাবি, কেন্দ্র সরকার নন্দীগ্রাম থেকে বাজকুল নতুন রেল প্রকল্পের পরিকল্পনা করলেও রাজ্য সরকারের পর্যাপ্ত সহযোগিতা না থাকায় কাজ এগোচ্ছে না। মাত্র ৬ একর জমির অভাবে এই রেল প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ করা সম্ভব হয়নি। শুভেন্দুর বক্তব্য, রেললাইন হলে নন্দীগ্রাম, মহিষাদল ও আশপাশের এলাকার সঙ্গে বড় শহরগুলির যোগাযোগ অনেক সহজ হয়ে যেত।
কৃষিপণ্য পরিবহন, ছোট ব্যবসা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ত। কিন্তু রাজ্যের অনীহা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেই সম্ভাবনা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একুশের বিধানসভা ভোটে মাননীয়া হেরে যাওয়ার প্রতিশোধ নিচ্ছেন। তাই নন্দীগ্রামের উন্নয়নে বাধা দিচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জল প্রকল্প বন্ধ হওয়ার অভিযোগ
রেল ইস্যুর পাশাপাশি নন্দীগ্রামে জলের প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ঘোলপুকুর বাজার থেকে শুরু করে নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জলের পাইপ পৌঁছে গেলেও এখনও পর্যন্ত তা বিছিয়ে জল সরবরাহ শুরু করা হয়নি। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, নন্দীগ্রামে মাননীয় পরাজিত হওয়ার পর থেকেই এই প্রকল্প কার্যত থমকে রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘পাইপ এসে পড়ে আছে, কিন্তু তা বসিয়ে জল সরবরাহ শুরু করা হচ্ছে না। নন্দীগ্রামের মানুষ কি শুধু ভোটের কারণে পরিষেবা থেকে বঞ্চিত থাকবে?’ বিজেপি নেতার আরও দাবি, এর মাধ্যমে রাজ্য সরকারের প্রতিশোধমূলক মনোভাব স্পষ্ট হচ্ছে। নন্দীগ্রামে হারের পর এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, নন্দীগ্রাম এখন রাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের পর এলাকায় উন্নয়ন থমকে আছে—এমন অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, ভোটের ফলের জেরেই নন্দীগ্রামের প্রতি রাজ্য সরকারের নজর কমেছে এবং বিভিন্ন প্রকল্পের কাজও ধীর গতিতে চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে অভিযোগ এখনও জারি রয়েছে, যা আগামী দিনেও রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: পোস্টাল ব্যালটে ভোট ঘিরে বিতর্ক, ভোটার প্রভাবিতের অভিযোগে সাসপেন্ড কনস্টেবল
