Criminal list
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
রাত পোহালেই রাজ্যের ১৫২টি কেন্দ্রে নির্বাচন। তার আগে রাজ্যের DGP সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে ভোটারদের ভয় দেখানো বা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাধাসৃ্ষ্টিকারী দাগী আসামীদের তালিকা-সহ চিঠি পাঠাল নির্বাচন কমিশন Criminal list। চিঠিতে তালিকা দেখে প্রদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের।

রাজ্যের পুলিশ প্রধানকে চিঠি নির্বাচন কমিশনের
ভোটের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্যের পুলিশ প্রধান বা ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই চিঠির সঙ্গে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে ভোটে সমস্যাসৃষ্টিকারী দাগী অপরাধীদের একটি তালিকাও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশনের আশঙ্কা, এই তালিকায় থাকা কিছু ব্যক্তি ভোটের সময় অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে বা ভোট প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তালিকায় তৃণমূল প্রার্থ ও প্রার্থী ঘনিষ্ঠ নেতার নাম
নির্বাচন কমিশন দ্বারা প্রকাশিত তালিকায় অনেক তৃণমূল প্রার্থী ও প্রার্থী ঘনিষ্ঠ নেতার নাম আছে। ফারাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম , কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক, হরিরামপুরের প্রার্থী বিপ্লব মিত্র, মাথাভাঙা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী সাবলু বর্মণ, কোচবিহার উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী পার্থ প্রতিম রায়, কালিয়াগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী নিতাই বৈশ্য, হামিদুল রহমান চোপড়া কেন্দ্র থেকে,নুর আলম শমসেরগঞ্জ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী , সায়ন্তন গোস্বামী কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রে, রঞ্জন সরকার মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, মনোরঞ্জন দে আলিপুরদুয়ার, সৈকত চ্যাটার্জি জলপাইগুড়ি, অর্ণব মণ্ডল ওরফে বান্টি রায়গঞ্জ প্রার্থী, মালতীপুরের তৃণমূল প্রার্থী আব্দুর রহিম বক্সীদের নাম এই তালিকায় আছে। ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের নামও এই তালিকায় আছে। নন্দীগ্রামের বির্তকিত তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ান থেকে সন্দেশখালির শেখ শাহজানের নামও। বসিরহাটের তৃণমূল নেতা বারিক বিশ্বাসের নামও আছে দাগীদের তালিকায়।
দাগীদের বিরুদ্ধে প্রদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ
২১ এপ্রিল জারি করা চিঠিতে জানানো হয়েছে, সংযুক্ত তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্র ও থানার এলাকায় সক্রিয়ভাবে ভোটারদের ভয় দেখানো এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দ্রুত তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে। নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনে FIR দায়ের, আইন অনুযায়ী নোটিশ প্রদান, প্রতিরোধমূলক আটক, সংশ্লিষ্ট এলাকা ও বুথে অতিরিক্ত পুলিশ পেট্রোলিং এবং নির্বাচন চলাকালীন তাঁদের গতিবিধির উপর কড়া নজরদারি রাখতে হবে।
পাশাপাশি জেলা পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে থানার ওসি ও এসডিপিও স্তর পর্যন্ত সব পুলিশ আধিকারিকদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা যেন কোনওভাবেই ভোটারদের ভয় দেখাতে বা নির্বাচনী কাজে হস্তক্ষেপ করতে না পারেন। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যদি কোথাও ভোটারদের ভয় দেখানো বা বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে, তবে তা অত্যন্ত গুরুতরভাবে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিককেও জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে। এছাড়াও নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন ভিত্তিতে জেলা পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের তরফেও জানানো হয়েছে, কমিশনের নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে। সংবেদনশীল এলাকায় বাড়ানো হয়েছে টহলদারি এবং নজরদারি। সব মিলিয়ে ভোটের আগের মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কমিশনের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ।
