pok protest
Bengal liberty: উত্তপ্ত পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর! এই অবহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢুকে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকদের মারধর করে পুলিশ বলে জানা গিয়েছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (JAAC) সরকার বিরোধী প্রতিবাদী কর্মসূচী কভার করায় কয়েকজন কাশ্মীরি সাংবাদিকদের গ্রেফতার করার জন্য ইসলামাবাদে অবস্থিত প্রেস ক্লাবে অভিযান চালায় পুলিশ। প্রেস ক্লাবের সামনে আইনজীবীরা মিলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে তাঁদের ওপর নির্বিচারে লাঠি চার্জ করে পুলিশ।
পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন (HRCP) সাংবাদিকদের ওপর বলপ্রয়োগের এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তদন্তের দাবিও তুলেছে।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, লাঠি হাতে রণ সজ্জায় সজ্জিত পুলিশ প্রেস ক্লাবে প্রবেশ করে সেখানে বসে থাকা সাংবাদিকদের মারধর করছে।
খবর মিলেছে, এই আন্দোলন ইসলামবাদ এবং করাচি পর্যন্ত বিস্তার করেছে। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পাকিস্তানের এই দুই প্রধান শহরকে ঘেরাও করতে চলেছে।

আন্দোলনের সূচনা: (Pok protest)
২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু হয়। এর আগে থেকেই শাটডাউন, হরতাল চলছিল।
নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণ, আকাশ ছোওয়া মূল্যবৃদ্ধিসহ পাকিস্তানে বসবাসকারী কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি বিধানসভা আসনের বিলোপ ঘটানো এবং বিদ্যুৎ ও ময়দার দামে ছাড়ের মতো এরকম মোট ৩৮ টি দাবি জানায় বিক্ষোভকারীরা।
প্রসঙ্গত, ১৯৪৭, ১৯৬৫, ১৯৭১-এ ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের কারণে বহু কাশ্মীরি ভারত ছেড়ে পিওকে (pok) চলে যান। এদের জন্য বিধানসভায় ১২টা আসন সংরক্ষিত। pok-এর বাসিন্দাদের অভিযোগ, এতে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু পরিবার উপকৃত। সেই কারণে এই সংরক্ষণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
এই বিক্ষোভের নেতৃত্বে রয়েছেন জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি। এদের ডাকেই POK-র নানা প্রান্ত থেকে মিছিল রওনা দিয়ে মুজাফ্ফরাবাদের দিকে এগোতে শুরু করে। রাস্তায় কন্টেনর রেখে বিক্ষোভকারীদের আটকানোর চেষ্টা চালায় প্রশাসন। সমস্ত বাধা টপকে, বিক্ষোভকারীরা শহরে ঢুকে পড়ে।
সংগঠনের নেতা শওকত নাওয়াজ মীর সরকারের বিরুদ্ধে কণ্ঠ তুলে বলেন, ”৭০ বছর ধরে আমাদের কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখার জন্য এই বিক্ষোভ। এই রাষ্ট্র এবং সরকার ডাইনি।”
১ অক্টোবর বিক্ষোভকারীরা রোড ব্লক উপক্ষা করে শহরে ঢুকে পড়েন। ধীরকোটে সেই সময় পাক রেঞ্জর্সরা নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে।
POk তে পর্যটন ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সাংবাদিকরাও ঢুকতে পারছেন না বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য , এই প্রথম নয়, ২০২৩-২০২৪ সালের মধ্যে দফায় দফায় POK তে বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে।
