Janatar Darbar
Bengal Liberty, ২৫ মে :
রাজ্যে প্রশাসনিক পালাবদলের পর বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছবিও (Janatar Darbar)। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে হাতিয়ার করেছেন। সেই উদ্যোগের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছে তাঁর ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি। আজ, সোমবার সকালে সল্টলেকের বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে দেখা গেল সেই ছবিই, নিয়োগ দুর্নীতির শিকার চাকরিপ্রার্থী, ২৬ হাজার চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের দীর্ঘ লাইন কার্যত স্পষ্ট করে দিল, নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশার আত্মবিশ্বাস কতটা উঁচুতে উঠেছে। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বঞ্চনা ও অনিশ্চয়তার আবহে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে অনেকের চোখেমুখেই ধরা পড়ল নতুন আশার ঝলক (Janatar Darbar)।

চাকরিপ্রার্থীদের ঢল, নিরাপত্তায় চাপে প্রশাসন (Janatar Darbar)
প্রতি সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি পালন করছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন কর্মসূচি শুরুর আগেই দপ্তর চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন চাকরিপ্রার্থীরা। প্রায় ১৫টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ভিড় এতটাই বাড়ে যে পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বও এদিন উপস্থিত ছিলেন। বন্ধ ঘরে প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

কী বললেন প্রতিনিধিরা (Janatar Darbar)
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে অনেক চাকরিপ্রার্থীর গলায় শোনা যায় স্বস্তির সুর। একাধিক প্রতিনিধি জানান, আগের সরকারের আমলে বহুবার আবেদন জানিয়েও তাঁরা প্রশাসনের দরজায় সাড়া পাননি। কিন্তু বর্তমানে অন্তত নিজেদের সমস্যার কথা সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ মিলছে। চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের বক্তব্য, যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায়বিচার ও পুনর্নিয়োগের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পরে এই সাক্ষাৎ তাঁদের কাছে নতুন লড়াইয়ের সাহস জোগাচ্ছে বলেও দাবি করেন অনেকে।

নিয়োগ দুর্নীতির সমাধানই এখন বড় পরীক্ষা (Janatar Darbar)
বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি অন্যতম বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছিল। সেই ইস্যুকেই সামনে রেখে বিজেপি ক্ষমতায় আসে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষমতায় এসেই নতুন সরকার সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ২৬ হাজার চাকরিহারার মামলা, আদালতের নির্দেশ, দুর্নীতিতে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনও জটিল। ফলে ‘জনতার দরবার’-এ আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কবে সমাধান মিলবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক মহলও নজর রাখছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই কঠিন প্রশাসনিক ও আইনি চ্যালেঞ্জ কতটা সফলভাবে সামাল দিতে পারেন।

