Suvendu Adhikari
Bengal Liberty, ২৫ মে :
তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার ঘটনাকে ঘিরে ফের নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল কোচবিহারে (Suvendu Adhikari)। ২০২৫ সালের বহুল আলোচিত খাগড়াবাড়ি কনভয় হামলা মামলায় রবিবার গভীর রাতে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম তন্ময় দাস এবং সুব্রত আচার্য। এর মধ্যে সুব্রত আচার্য কোচবিহার ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মাধ্যক্ষ বলে জানা গিয়েছে। আজ, সোমবার ধৃতদের কোচবিহার আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। আগামী ৩০ মে ফের তাদের আদালতে পেশ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর (Suvendu Adhikari)।

ঘটনার বৃত্তান্ত (Suvendu Adhikari)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট কোচবিহারের খাগড়াবাড়ি এলাকায় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। অভিযোগ, কনভয় লক্ষ্য করে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং গাড়ি ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। সেই সময় বিজেপির পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হওয়া হয়। পাল্টা তৃণমূলের তরফেও বিভিন্ন দাবি সামনে আনা হয়েছিল।

দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ যোগ থাকার প্রমাণ (Suvendu Adhikari)
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। দীর্ঘ তদন্তের পর গত ১৫ মে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শুভঙ্কর দে-সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে গত ২১ মে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করে। এরপর থেকেই তদন্তের গতি আরও বাড়ায় পুলিশ। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, নতুন করে গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগ থাকার প্রমাণ মিলেছে। বিশেষ করে হামলার সময় এলাকায় উপস্থিত থাকা, উত্তেজনা ছড়ানো এবং পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই কারণেই আদালতে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে পাঁচ দিনের হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

রাজনৈতিক মহলে চর্চা (Suvendu Adhikari)
এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কনভয় হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং তদন্ত নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা হোক। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দলের নেতাকর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতেই সমস্ত পদক্ষেপ করা হচ্ছে এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পুনর্তদন্ত এবং একের পর এক গ্রেফতার ঘিরে কোচবিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে তদন্তে আরও নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।


