CM Suvendu Adhikari
Bengal Liberty, ২৬ মে :
এবার ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর পরিবর্তে চালু হতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ যোজনা (Annapurna Bhandar)। রাজ্যে সরকার বদলের পর একের পর এক জনমুখী প্রকল্পে বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে নতুন প্রশাসন। মঙ্গলবার কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, আগামীকাল, বুধবারই ফর্ম প্রকাশিত হবে। রাজ্যের প্রায় ২ কোটি ৪১ লক্ষ মহিলা ইতিমধ্যেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পান। পুরোনো উপভুক্তাদের পাশাপশি নতুন উপভক্তরাও এই যোজনার সুবিধা পেতে চলেছেন। একই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দেন, নতুন প্রকল্পে টাকা ঢোকা শুরু না হওয়া পর্যন্ত পুরনো ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর সুবিধাও চালু থাকবে (Annapurna Bhandar)। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ” এই বিষয়ে বুধবারই বিস্তারিত জানানো হবে। নথিভুক্তকরণ যত তাড়াতাড়ি করবেন, তত দ্রুত সুবিধা আমরা দিতে পারব।”

বুধবার থেকেই শুরু ফর্ম প্রকাশ ও নথিভুক্তিকরণ (Annapurna Bhandar)
মঙ্গলবার কল্যাণীর এপিজে আব্দুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ কে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’-এ এবং ‘স্বাস্থ্য সাথী’কে ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এ রূপান্তরের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামীকাল বুধবার নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের একটি নির্দিষ্ট ফর্ম প্রকাশ করা হবে। সেই ফর্ম পূরণ করেই নতুন প্রকল্পের সুবিধা পেতে হবে। তাঁর কথায়, যত দ্রুত উপভোক্তারা নথিভুক্তিকরণ করবেন, তত দ্রুত তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১ জুন থেকেই ধাপে ধাপে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “বুধবার ইমেলে নবান্ন থেকে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী, মুখ্যসচিব, অর্থসচিব এবং অন্যান্য আধিকারিকের উপস্থিতিতে অগ্নিমিত্রা পাল এবং আমি একটি ফর্ম প্রকাশ করব। সেই ফর্ম অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে পূরণ করতে হবে।”
সরকারি সূত্রে আরও খবর, আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইন এবং অফলাইন, দুই মাধ্যমেই হবে। শুধু সাধারণ মানুষের উপর বিষয়টি ছেড়ে না দিয়ে বিধায়ক, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং সরকারও বিডিওদের নেতৃত্বে প্রত্যেক বাড়িতে বাড়িতে ফর্ম ফিলাপের জন্য সহযোগিতা করার জন্য লোক পাঠাবেন।

নতুন সুবিধা না পাওয়া অবধি পুরোনো সুবিধা চালু থাকবে (Annapurna Bhandar)
নতুন প্রকল্প চালুর মধ্যেও সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, যতদিন পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় ৩ হাজার টাকা দেওয়া শুরু না হচ্ছে, ততদিন ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর টাকা নিয়ম মেনেই দেওয়া হবে। একইভাবে ‘স্বাস্থ্য সাথী’ও চালু থাকবে, যতক্ষণ না পুরোপুরি ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এ রূপান্তর সম্পন্ন হচ্ছে।এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কোনওভাবেই সরকারি অর্থ দেওয়া হবে না বলেও কড়া বার্তা দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “ভারত সরকারের টাকা বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য নয়।”


