Councilor resign
Bengal liberty desk, 27 মে ,কলকাতা:
কলকাতা পুরসভায় টানটান নাটক! দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে নিজেরই লোকেদের বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়েও যিনি পদ ছাড়েননি, আজ সেই লড়াকু কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ ছেড়ে দিলেন বরো চেয়ারম্যানের পদ। তাঁর সঙ্গেই ইস্তফা দিলেন অরূপ চক্রবর্তী। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, নিজের দলের দুষ্কৃতীদের গুলিতে রক্তাক্ত হয়েও যিনি মাটি কামড়ে পড়েছিলেন, আজ তৃণমূলের ভরাডুবির পর কেন এই প্রস্থান?

দলের একনিষ্ঠ ভক্তের কেন এই মোহভঙ্গ? Councilor resign
সুশান্ত ঘোষের রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত নাটকীয়। ২১ জুলাইয়ের সেই ঐতিহাসিক দিনে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। গত বছর এর এই ঘটনায় বাড়ির সামনে তাঁর বুকে বন্দুক ঠেকিয়েছিল আততায়ী, পিস্তল লক হয়ে যাওয়ায় সেবার অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। জাভেদ খান বিরোধী লবির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিত সুশান্ত তখন বুক ঠুকে বলেছিলেন, “বিরোধী কোথায়?” অর্থাৎ নিজের দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের শিকার হয়েও তিনি আনুগত্য হারাননি। কিন্তু আজ দলের বিপর্যয়ের দিনে তাঁর এই ইস্তফা প্রমাণ করছে যে, ক্ষোভের আগুন অনেক গভীরে।

বিস্ফোরক অভিযোগ ও তদন্তের দাবি:
ইস্তফা দিয়ে সুশান্ত ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর ওপর হওয়া গুলিকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় তদন্ত সঠিক পথে হয়নি এবং অনেক সত্য আড়াল করা হয়েছে। তাই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তাঁর জোরালো আবেদন, ওই ঘটনার যেন পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্ত করা হয়।

অরূপের ক্ষোভ ও নেতৃত্বের অভাব:
সুশান্তের সঙ্গেই পদত্যাগ করেছেন অরূপ চক্রবর্তী। তাঁদের সাফ কথা, এতদিন যাঁরা মন্ত্রী ছিলেন বা দলের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন, আজ কর্মীদের বিপদে তাঁদের দেখা মিলছে না। মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়ে এবং কর্মীদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
নিজের দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার হয়েও যে সুশান্ত ঘোষ লড়ে গিয়েছিলেন, তাঁর এই ‘বেসুরো’ হওয়া আসলে কলকাতার বুকে তৃণমূলের এক শক্তিশালী দুর্গের ফাটল বলেই মনে করা হচ্ছে।

