Kakoli vs Kalyan
Bengal Liberty, ২৮ মে :
তৃণমূলের অন্দরে চাপা দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরণের রূপ নিল সংসদের অন্দরেই (Kakoli vs Kalyan)। দলের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মৌখিক হেনস্থা ও নারীবিদ্বেষী আচরণের গুরুতর অভিযোগ তুলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিলেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। একদিকে দলীয় পদ থেকে ইস্তফা, অন্যদিকে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সাংসদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি করলেন তৃণমূল সাংসদ। সব মিলিয়ে জোড়া বিতর্কে নতুন করে অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। তবে বলাই বাহুল্য, এই সংঘাত শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বা একদিনের ক্ষোভ নয় বরং তৃণমূলের অন্দরের দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের এবং পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ (Kakoli vs Kalyan)।

স্পিকারের হস্তক্ষেপ চাইলেন কাকলি (Kakoli vs Kalyan)
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে লেখা চিঠিতে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার অভিযোগ করেন, শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে একাধিকবার মৌখিক হেনস্থা করেছেন। শুধু তাই নয়, লোকসভার মহিলা সাংসদদের প্রতিও কল্যাণের মনোভাব ‘নারীবিদ্বেষী’ বলেও দাবি করেছেন তিনি। কাকলির বক্তব্য, সংসদের মতো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে কোনও মহিলা সাংসদের প্রতি এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। তাই কল্যাণের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি চেয়েছেন তিনি।

প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব (Kakoli vs Kalyan)
গত কয়েকদিন ধরেই তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল কাকলি ঘোষদস্তিদারের। রবিবার বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে নাম না করে ‘ভুঁইফোঁড় সংস্থা’ বলে আই-প্যাককে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। গতকাল, বুধবার ফের দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ ছেড়ে দিয়ে আরজি কর-কাণ্ড ও আই-প্যাকের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন কাকলি। সেই চিঠিতেই নাম না করেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি লেখেন, “যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের উপর অন্য এক জন অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা পাওয়া যায় না, সে পদে থাকার মানে হয় না।”
অন্যদিকে কাকলির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমি সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক ছিলাম। মাঝখানে কয়েক মাস ওই দায়িত্বে ছিলাম না। ওঁর আবার কিসের এত কথা? নারদে তো আমি পাঁচ লক্ষ টাকা নিইনি, উনি নিয়েছেন।”

কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সাংসদের ছেলে (Kakoli vs Kalyan)
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আপত্তিকর ও কুরুচিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলেন সংসদের ছেলে ড. বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। এক প্রেস বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ কখনও ব্যক্তিগত আক্রমণ, নারী বিদ্বেষ বা চরিত্রহননের পর্যায়ে নামতে পারে না। বিশেষ করে একজন মহিলা জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
পাশাপশি তিনি জানান, বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে তাঁদের আইনি দল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাননীয় হাইকোর্টে আইনি নোটিশ পাঠানো এবং ফৌজদারি মানহানির মামলা-সহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ শুরু করা হচ্ছে বলে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। পাশাপাশি রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান কুরুচিকর ভাষার সংস্কৃতির বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি। তাঁর কথায়, জনজীবনে শালীনতা, পারস্পরিক সম্মান ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ বজায় রাখা সকল জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। তারপরই রাত কাটতে না কাটতেই স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিলেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।


