Suvendu adhikari Mayapur ISKON
Bengal Liberty, মায়াপুর :
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথমবার মায়াপুর সফরে এলেন শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে সরাসরি নদিয়ার মায়াপুরে পৌঁছন তিনি (Suvendu adhikari Mayapur ISKON)। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে বুধবার রাত থেকেই গোটা মায়াপুর চত্বরে ছিল উৎসবের আবহ। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ইসকন মন্দির এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা মুড়ে ফেলা হয়েছিল কড়া নিরাপত্তার বলয়ে। মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণে রাজকীয় স্বাগত
মায়াপুরে পৌঁছে প্রথমেই ইসকন মন্দিরে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ইসকনের সন্ন্যাসীরা তাঁকে মালা পরিয়ে এবং বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে স্বাগত জানান। এরপর মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশেষ যজ্ঞানুষ্ঠানে অংশ নেন শুভেন্দু অধিকারী। যজ্ঞ চলাকালীন তাঁকে ভক্তিভরে পূজার্চনায় অংশ নিতে দেখা যায়। যজ্ঞ শেষে মন্দিরের বিগ্রহের সামনে সাষ্টাঙ্গে প্রণামও করেন তিনি।
এরপর মুখ্যমন্ত্রী ইসকনের গোশালায় যান। সেখানে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। ইসকনের সন্ন্যাসীদের উপস্থিতিতে নিজে হাতে গো-সেবা করেন শুভেন্দু অধিকারী। গোমাতার পা জল দিয়ে ধুয়ে দেন তিনি। পাশাপাশি গরুকে নিজের হাতে খাদ্যও খাওয়াতে দেখা যায় তাঁকে। মুখ্যমন্ত্রীর এই কর্মসূচি ঘিরে উপস্থিত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।
ইসকনের মুখপাত্র রসিক গৌরাঙ্গ দাস বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী এই প্রথমবারের মতো ইসকনে এসেছেন। তিনি গোপীজন গো-সেবা ও যজ্ঞে অংশগ্রহণ করেছেন। এরপর সাধুসন্তদের সঙ্গে মতবিনিময়েরও একটি অনুষ্ঠান রয়েছে। ইসকনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি যথেষ্ট আগ্রহী এবং উৎসাহী।”

মুখ্যমন্ত্রী ইসকনের কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত আগ্রহী
সূত্রের খবর, এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ইসকনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধুসন্তদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক। সেখানে গো-সেবা, ‘গো-ধন যোজনা’ এবং নবদ্বীপ-মায়াপুরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পকে আরও কীভাবে বিকশিত করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় পর্যটনের পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে ইসকন কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও মায়াপুরের চন্দ্রোদয় মন্দির-সহ একাধিক মন্দিরের উন্নয়নমূলক কাজ, নির্মাণ সংক্রান্ত সরকারি ছাড়পত্র এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ইসকন সূত্রে খবর, তাদের বেশ কিছু জমি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। সেই বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করতে পারেন আশ্রমের সাধুসন্তরা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ধর্মীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে মায়াপুরকে নতুনভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে ইসকনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রেও এই সফর গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

