abhisekh banerjee
Bengal Liberty :
শনিবার সোনারপুরে জনরোষের সম্মুখীন হয়েছিলেন তৃণমূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসন অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে (Abhishek Banerjee controversy)। কিন্তু এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় সামনে এল এক বিস্ফোরক তথ্য। ঘটনার পর অভিষেক দাবি করেছিলেন, তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছে বিজেপির বহিরাগতরা।
কিন্তু গ্রেফতারির পর দেখা যাচ্ছে, ধৃতরা কেউ বহিরাগত বা বিরোধী দলের সদস্য নন; বরং তৃণমূলেরই সক্রিয় কর্মী ও পদাধিকারী! অভিযুক্তদের আটক করতেই এ কথা স্বীকার করেছে ধৃতদের পরিবার। সূত্রের খবর, হামলাকারী যুবকেরা সোনারপুর দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক লাভলী মৈত্রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এমনকি, মূল অভিযুক্ত আকাশ গায়েন একজন তৃণমূল বুথকর্মী, যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জামার কলার পাকড়াও করেছিল।

শনিবার এই ঘটনার জেরে মূলত একাধিক প্রশ্ন সামনে আসছে:
ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ১: সন্দেহের তির লাভলী মৈত্রের দিকে
অভিযুক্ত আকাশ গায়েনসহ বাকি পাঁচজন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়িকা লাভলী মৈত্রের ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত। এর আগে জাহাঙ্গীরের মতো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেশ কিছু ছায়াসঙ্গীর অত্যাচারে সোনারপুরসহ গোটা এলাকা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। নির্বাচনে চরম পরাজয়ের পর গতকাল সেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন লাভলী মৈত্রের দলীয় কর্মীরা। কার্যত, দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বের শিকার হলেন ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’। অন্যদিকে, সম্পূর্ণ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন বিধায়িকা। তিনি জানিয়েছেন, “আমি এই ব্যাপারে অবগত নই। দোষীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক।”

ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ২: সাজানো কাহিনী
এর আগে বহুবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যান্য দলীয় কর্মীরা ইডি, সিবিআই বা সিআইডির হাজিরা এড়াতে অসুস্থতার নাটক করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে বিরোধীরা দাবি করে আসছেন। তাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর এই জনরোষ সাজানো নাটকীয় ঘটনা হওয়াও বিচিত্র নয়। প্রশ্ন উঠেছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মাথা বাঁচাতে আচমকা হেলমেট পেলেন কীভাবে? তাছাড়া গুরুতর আঘাতের চিহ্ন না থাকায় হাসপাতালও তাঁকে ভর্তি নেয়নি। তবে কি কেন্দ্রীয় সংস্থার হাজিরা এড়াতেই এই আক্রান্ত হওয়া বা অসুস্থতার নাটক? সবটাই কি তবে পূর্বপরিকল্পিত ছিল? গতকালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন একাধিক প্রশ্ন উঠে আসছে।
বিজেপির অভিমত
বর্তমানে বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে ‘কর্মফল’ হিসেবেই দেখছে। তাদের মতে, বাংলা দীর্ঘদিন ধরে বহু অত্যাচার, অভয়া কাণ্ড, ধর্ষণ ও খুনের সাক্ষী হয়েছে; কিন্তু রাজ্যবাসী কোনোদিন তার যথাযথ বিচার পায়নি। কার্যতই, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে পেয়ে সমস্ত ক্ষোভ ও ক্রোধ উগরে দিয়েছে এলাকাবাসী। তবে গতকালের ঘটনাটি নিছক কাকতালীয় নাকি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল—তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা এখন তুঙ্গে।

