Assembly Signature Forgery
Bengal Liberty, ১ জুন :
বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের চিঠিতে বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তদন্তের গতি আরও এক ধাপ বাড়ল। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তভার আরও জোরদার করতে পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে সিআইডি(Assembly Signature Forgery)। এক স্পেশ্যাল সুপারিনটেনডেন্টের নেতৃত্বে গঠিত এই উচ্চপর্যায়ের দল ইতিমধ্যেই নথি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। এরই মধ্যে সোমবার ভবানী ভবনে হাজিরার জন্য সমন পাঠানো হয়েছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে হাজিরা দিলেন না তিনি। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তদন্তকারী সংস্থার কাছে চিঠি পাঠিয়ে হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন অভিষেক। যদিও তাঁর জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন প্রস্তুত রেখেছিলেন তদন্তকারীরা বলে সূত্রের খবর (Assembly Signature Forgery)।

বিধায়কদের বয়ানে মিলেছে অসঙ্গতি (Assembly Signature Forgery)
সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি সিআইডি সূত্রের। তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যেই আদালতে সিজার লিস্ট বা বাজেয়াপ্ত নথিপত্রের বিস্তারিত তালিকা জমা দিয়েছে গোয়েন্দারা। পাশাপাশি মামলার সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিধায়কের বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে। চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম এবং ডোমজুড়ের বিধায়ক তাপস মাইতির বাড়িতে গিয়ে তাঁদের বক্তব্য সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। সিআইডি সূত্রের দাবি, ওই বয়ান এবং উদ্ধার হওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি ও প্রশ্ন উঠে এসেছে। সেই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিস্তারিত প্রশ্নমালা তৈরি করেছিল বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। তবে সোমবার তিনি হাজিরা না দেওয়ায় তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে তদন্তকারী মহলে।

একাধিকবার হাজিরা নোটিস অভিষেককে (Assembly Signature Forgery)
সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে গত শনিবার প্রথমে শান্তিনিকেতনে এবং পরে কলকাতার কালীঘাটের বাসভবনে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে হাজিরার নোটিস তুলে দেয় সিআইডির চার সদস্যের একটি দল। নোটিস গ্রহণের পর অভিষেক স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, তিনি আইনি পরামর্শ নিয়েই তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন, তবে কোনও চাপের কাছে মাথা নোয়াবেন না। যদিও সোমবার ভবানী ভবনে তাঁর সশরীরে হাজিরা নিয়ে জল্পনা চলছিল, শেষ পর্যন্ত শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তদন্তকারী সংস্থার কাছে চিঠি পাঠিয়ে হাজিরা থেকে অব্যাহতি চান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

ভবানীপুরে অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর (Assembly Signature Forgery)
সই জালিয়াতি মামলায় সিআইডির তদন্তের চাপের মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে আরও একটি ফৌজদারি মামলা। এর আগে বিধাননগরে হুমকির অভিযোগে এফআইআর হয়েছিল। এবার ভবানীপুর থানায় উস্কানিমূলক মন্তব্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক সভায় গুজরাতি সম্প্রদায়কে ‘গুজরাতি গ্যাং’ বলে মন্তব্য করেছিলেন অভিষেক। এই মন্তব্যে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ ও উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ তুলে বিরোধীরা সরব হয়। সেই ঘটনার জেরেই নতুন এফআইআর দায়ের হয়েছে। ফলে একদিকে সিআইডির তদন্ত, অন্যদিকে নতুন মামলার চাপ, সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি উত্তাপ আরও বেড়েছে।


