SIR
Bengal Liberty: আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী ভৌগলিক অবস্থান, ভিনরাজ্যে যাওয়া এবং ভিনরাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিক, রাজ্যবাসীর রাজনৈতিক সচেতনতা এবং ভোট রাজনীতির প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিরোধিতা। এই সবকিছুকেই মাথায় রেখে বিহারের পর এসআইআর চালু করা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পাখির চোখ এখন পশ্চিমবঙ্গই। তবে রাজনৈতিক জটিলতা এড়াতে শুধু পশ্চিমবঙ্গই নয়, বিহার ছাড়া পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের বাকি অংশেও এসআইআর চালু করার প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, (SIR)
পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা দেশে একসঙ্গে এসআইআর চালু করা কার্যত সম্ভব নয়। বিহার বাদে দেশের বাকি অংশে একসঙ্গে এসআইআর চালু করতে হলে যে বিপুল পরিকাঠামোর প্রয়োজন তা একপ্রকার নির্বাচন কমিশনের সাধ্যের বাইরে। সেকারণেই দফায় দফায় বেশ কয়েকটি স্তরে দেশজুড়ে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে চায় কমিশন।
সূত্রের খবর, এখনই গোটা দেশে নয়, পশ্চিমবঙ্গ সহ মোটামুটি দশটি রাজ্যে প্রথম পর্যায়ে একসঙ্গে এসআইআর চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।
পশ্চিমবঙ্গ তো থাকছেই তার সঙ্গে ২০২৬-এ নির্বাচনমুখী আরও তিনটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা ও পুদুচেরী) টার্গেট কমিশনের।
তাছাড়া বিভিন্ন রাজ্যে অথবা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এমনকি নির্বাচনমুখী রাজ্যগুলিতেও পরিকাঠামোর সুবিধার্থে বিভিন্ন দিনে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর দিন ধার্য করা হতে পারে বলেও খবর। অবশ্যই সার্বিক পরিকাঠামো ও ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।
মূলত, দেশের জনবহুল মুখ্য শহরগুলি যে রাজ্যে রয়েছে যেখানে জীবিকার সন্ধানে ভিন রাজ্য বা প্রতিবেশী দেশ থেকে মানুষজনের আনাগোনা বেশি হয়, সেই রাজ্যগুলোকে এসআইআর তালিকার প্রথম দিকেই রাখতে চায় নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ বিহারের পর এসআইআর চালু করার জন্য কমিশনের প্রথম দশে নির্বাচনমুখী পাঁচ রাজ্য ছাড়াও, নজরে রয়েছে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, পাঞ্জাব, হরিয়ানা অথবা দিল্লী (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল)। এমনকি রাজস্থান ও গুজরাট নিয়েও প্রথম দফায় বিবেচনা হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর।
আসলে দেশের নাগরিক তথা যোগ্য ভোটার এইরকম একজনও ভোটাধিকার থেকে যাতে বঞ্চিত না হন সেদিকেই লক্ষ্য রেখেই দেশজুড়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। সেই লক্ষ্যে কোনও ভিনদেশী ভোটার যাতে ভোট দিতে না পারেন অথবা কোন নাগরিকের একাধিক ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকে তা নিশ্চিত করতেই সুচারুভাবে দেশজুড়ে এসআইআর করতে চায় নির্বাচন কমিশন। সে কারণেই নিজেদের হাতে থাকা পরিকাঠামোর সার্বিক ও যথোপযুক্ত ব্যবহারের কথা বিচার করে একাধিক পর্যায়ে দেশজুড়ে এসআইআর সম্পন্ন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। সেই মোতাবেক গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির কথা মাথায় রেখেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোতে আগেই এসআইআর সম্পন্ন করা হতে পারে বলে কমিশনের পদাধিকারীরা জানিয়েছেন।
তবে সব রাজ্যগুলির মধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভূটান সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব যে সবথেকে বেশি সে কথা ইতিমধ্যেই বুঝিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
উল্লেখযোগ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের ৭ মে। অর্থাৎ, এই সময়য়ের আগে সম্পূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। এবং নতুন রাজ্য সরকারকে শপথ গ্রহণ করতে হবে। সেই অর্থে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ করতে হলে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে অথবা মার্চের প্রথম দিকে এরাজ্যে ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্টও প্রকাশ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে , কবে পশ্চিমবঙ্গে চালু হবে এসআইআর? (SIR)
উত্তরের অপেক্ষায় এখন রাজ্যবাসী। নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিকে এ রাজ্যে এসআইআরের বিজ্ঞপ্তি জারি করার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর।
যেহেতু এখনও পর্যন্ত রাজ্যে বুথ লেভেল অফিসারদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়নি এবং তাঁদের নিয়োগ সম্পূর্ণ হয়নি। একইসঙ্গে ভোটার ম্যাপিংয়ের কাজও বেশ কিছুটা বাকি। তাই চলতি মাসে রাজ্যে এসআইআর-এর বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার সম্ভাবনা একপ্রকার নেই বললেই চলে। এসআইআর-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে গেলে আগে তার প্রস্তুতির সব কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। তা নাহলে কোনওভাবেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যথার্থ নয় বলে জানিয়েছেন কমিশনের পদাধিকারীরা। কারণ, বিজ্ঞপ্তি একবার প্রকাশ হয়ে গেলে তখন আর বসে থাকা নয়, যেকোনও মূল্যে এসআইআর-এর কাজ শেষ করাটাই মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াবে। তাই সব দিকে বিবেচনা করে অযথা তাড়াহুড়োর বদলে হিসেব কষেই নির্বাচনমুখী রাজ্যগুলোতে এসআইআর চালু করতে চায় নির্বাচন কমিশন।
