Mamata Political Downfall
কলকাতা, ২ জুন: বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেমে অস্বস্তিতে পড়তে হলো তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সোমবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে আয়োজিত দলের ধর্না কর্মসূচিতে দেখা গেল বিধায়ক ও সাংসদদের উল্লেখযোগ্য অনুপস্থিতি। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। তৃণমূলের দাবি, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলীয় কর্মীদের উপর হওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। তবে কর্মসূচিতে উপস্থিতির হার নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে।
মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন বিধায়ক (Mamata Political Downfall)
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনে জয়ী প্রায় ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় জনকে মঞ্চে দেখা যায়। উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন প্রবীণ নেতা। তবে অধিকাংশ বিধায়ক ও সাংসদের অনুপস্থিতি নজর কেড়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দলের প্রথম বৈঠকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিধায়ক উপস্থিত থাকলেও সময়ের সঙ্গে সেই সংখ্যা কমেছে বলেই দাবি বিভিন্ন মহলের। সোমবারের কর্মসূচিতে তারই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের।

অনুমতি নিয়ে জটিলতা (Mamata Political Downfall)
প্রথমে রানি রাসমণি রোডে ধর্নার পরিকল্পনা থাকলেও পুলিশের অনুমতি না মেলায় শেষ মুহূর্তে স্থান পরিবর্তন করতে হয়। পরে ওয়াই চ্যানেলে সীমিত সময়ের জন্য কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়। মঞ্চ তৈরির অনুমতি না থাকায় ট্রাম ডিপোর শেডের নিচে দাঁড়িয়েই বক্তব্য রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মসূচির মাঝে শব্দ ও বিশৃঙ্খলার কারণে বক্তব্য দিতে সমস্যার মুখেও পড়তে হয় তাঁকে। সেখানেই ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন যে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তাঁকে দেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি করা হচ্ছে।
দলের অন্দরে অসন্তোষ? (Mamata Political Downfall)
সাম্প্রতিক সময়ে দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষের খবর সামনে এসেছে। কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যেই নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন শ্ন তুলেছেন। বিরোধীদের দাবি, তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের ইঙ্গিত মিলছে। অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, কিছু বিচ্ছিন্ন মতভেদকে বড় করে দেখানো হচ্ছে এবং দল এখনও ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।

বিজেপির কটাক্ষ (Mamata Political Downfall)
এই পরিস্থিতিতে বিজেপিও তৃণমূলকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি। বিজেপি নেতাদের দাবি, মানুষের সমর্থন হারানোর ফলেই আজ তৃণমূলের কর্মসূচিতে সেই পুরনো ভিড় দেখা যাচ্ছে না। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, একটি কর্মসূচিতে উপস্থিতির হার দিয়েই কোনও দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যায় না। কিন্তু নেতৃত্বের পাশে দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কম উপস্থিতি অবশ্যই রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।

লড়াইয়ের বার্তা মমতার (Mamata Political Downfall)
সব বিতর্কের মাঝেও দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে তিনি কর্মীদের পাশে থাকবেন এবং রাজনৈতিকভাবে লড়াই জারি থাকবে। তবে প্রশ্ন উঠছে, সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ, অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং বিরোধীদের ক্রমাগত আক্রমণের মধ্যে তৃণমূল নেতৃত্ব কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ধর্মতলার এই কর্মসূচি সেই বিতর্ককেই আরও উসকে দিল।

