Kultali TMC leader
Bengal Liberty,৩ জুন ,কুলতলি: নদিয়া ও শ্রীরামপুরের পর এবার দুর্নীতির বড়সড় থাবা দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতে। সাধারণ মানুষের জন্য আসা বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী ঘরে লুকিয়ে রাখার মারাত্মক অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। শুধু ত্রাণই নয়, ওই নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ এবং পুলিশের পোশাক! এই ঘটনায় কুলতলি থানার পুলিশ কার্তিক সরদার নামে ওই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে। জানা গিয়েছে, ধৃত কার্তিকবাবু কুলতলি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রূপা সরদারের কাকা-শ্বশুর।
ত্রাণ আসত গাড়িতে, ঢুকত নেতার গোডাউনে (Kultali TMC leader)
কুলতলি ব্লকের জলাবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই অঞ্চলের বহু পরিবার যখন চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তখন তাঁদের মুখে অন্ন না দিয়ে সরকারি ত্রাণ লুঠ করা হয়েছে। সুজাতা সরদার নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, তাঁরা বহুবার বড় বড় গাড়িতে করে এলাকায় ত্রাণসামগ্রী আসতে দেখতেন। কিন্তু সেই ত্রাণ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাত না, সরাসরি চলে যেত এই তৃণমূল নেতার বাড়িতে।
উদ্ধার অস্ত্র, পুলিশের পোশাক ও সরকারি নথি (Kultali TMC leader)
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ কার্তিক সরদারের বাড়িতে অভিযান চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় তদন্তকারীদের। বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়, রাশি রাশি সরকারি ত্রাণসামগ্রী, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা কার্তুজ।পুলিশের পোশাক এছাড়াও সাধারণ মানুষের একাদিক সরকারি আবেদনপত্র।
এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির কুলতলি বিধানসভার প্রার্থী মাধবী মহালদার। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের যে সমস্ত আবেদনপত্র পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতির অফিসে থাকার কথা, সেগুলি কেন একজন নেতার বাড়িতে লুকিয়ে রাখা ছিল? পুলিশের পোশাকই বা কেন তাঁর ঘরে? এই ঘটনা প্রমাণ করে যে এলাকায় সরকারি সম্পত্তি লোপাটের এক বিশাল সিন্ডিকেট চলছে।

আজই পেশ আদালতে (Kultali TMC leader)
এই ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও গণবিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ধৃত তৃণমূল নেতা কার্তিক সরদারকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ বুধবারই ধৃতকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। এই চক্রের সঙ্গে আর কোন কোন বড় মাথা জড়িত রয়েছে, তা জানতে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

