Papiya Adhikari Tollygunge
Bengal Liberty, ৩ জুন,টালিগঞ্জ: দীর্ঘ ২০ বছর পর টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে ‘বিশ্বাস দুর্গে’র পতন ঘটিয়েই এবার টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ভোলবদল করতে ‘অ্যাকশনে’ নেমে পড়লেন বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। বুধবার সকালে টেকনিশিয়ান স্টুডিও চত্বরে কলাকুশলীদের নিয়ে এক হাইভোল্টেজ বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, টলিউডকে দুর্নীতিমুক্ত করতে এবার শুরু হবে ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া। টাকা দিয়ে কাজ পাওয়া অযোগ্যদের চিহ্নিত করে ইন্ডাস্ট্রি থেকে ছেঁটে ফেলা হবে।
ভাঙল ২৬টি গিল্ড, আসছে নতুন সংগঠন EIMPCC (Papiya Adhikari Tollygunge)
বিগত এক দশক ধরে টলিউডে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ অর্থাৎ অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের একচ্ছত্র প্রতিপত্তি ছিল বলে ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠছিল। টলিপাড়ায় বিরোধী শিবিরের শিল্পীদের কোণঠাসা করা এবং কথায় কথায় ‘ব্যান কালচার’ বা নিষিদ্ধ করার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমেছিল কলাকুশলীদের মনে।
আজ সেই ফেডারেশন জমানার অবসান ঘটিয়ে পাপিয়া অধিকারী নতুন সংগঠনের ঘোষণা করেন। এখন থেকে ফেডারেশনের পুরনো কাঠামো ভেঙে সবাই এক ছাতার তলায় আসবেন, যার নাম Eastern India Motion Pictures & Cultural Confederation (EIMPCC)।
আগে ফেডারেশনের আওতায় ২৬টি গিল্ড ছিল, যা এবার পুরোপুরি বাতিল হচ্ছে। পরিবর্তে ‘সিনেম্যাটোগ্রাফি’, ‘পরিচালক’, ‘প্রোডাকশন কন্ট্রোলার’ এবং ‘আর্ট অ্যান্ড কস্টিউম’— এই প্রধান ৪টি বিভাগের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্ত কলাকুশলীরা কাজ পাবেন। সিনেমার প্রযোজকেরা এই ৪টি বিভাগের সঙ্গেই সরাসরি আলোচনা করে কাজ ঠিক করবেন, ফলে ‘ব্যান কালচার’ চিরতরে মুছে যাবে।

টাকা দিয়ে চাকরি ও আত্মহত্যার প্ররোচনার তদন্ত: ‘SIR’ (Papiya Adhikari Tollygunge)
পাপিয়া অধিকারী কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “বহিরাগতরা এসে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির উপার্জন নষ্ট করেছে। যারা এতদিন ধরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে শোষণ করে এসেছে, এমনকি শিল্পীদের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছে, তারা দয়া করে নিজেরাই সরে যান। না হলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।”
তিনি জানান, মোটা টাকা দিয়ে অযোগ্য যারা টলিউডের বিভিন্ন বিভাগে ঢুকে পড়েছে, তাদের চিহ্নিত করতে এবার ‘এসআইআর’ করা হবে। ইতিমধ্যেই তাঁর কাছে বহু দুর্নীতিবাজের নাম জমা পড়েছে। তবে অভিযুক্তদের সংশোধনের সুযোগ দিতে সেই নথি এখনই প্রশাসনের হাতে দেওয়া হচ্ছে না। তারা নিজে থেকে না সরলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যোগ্যের সম্মান ফেরানোই লক্ষ্য: রুদ্রনীল ঘোষ (Papiya Adhikari Tollygunge)
এই বৈঠককে সমর্থন জানিয়ে বিজেপির আরেক বিধায়ক-অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষও বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, নতুন বিজেপি সরকারের লক্ষ্যই হলো টলিউডের গুণগত বিকাশ, ভয়ভীতি দূর করা এবং যোগ্যের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া। থিয়েটার, যাত্রা, সঙ্গীতসহ সংস্কৃতির সব ক’টি ক্ষেত্রকে রাজনীতির নাগপাশ থেকে মুক্ত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আজকের এই ঐতিহাসিক বৈঠকের পর টলিপাড়ার কলাকুশলীরা অবশেষে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর ভয় থেকে মুক্ত হতে পারলেন বলে মনে করছে সিনেমা মহলের একাংশ।

