Aroop Biswas
Bengal Liberty : লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে আপাতত স্বস্তি পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas)। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হলেও, আপাতত তাঁর রক্ষাকবচে কোনও হস্তক্ষেপ করল না ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে, অরূপ বিশ্বাস তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন এবং তদন্তকারী আধিকারিকের ডাকে নিয়মিত হাজিরাও দিচ্ছেন। সেই প্রেক্ষিতেই মামলার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত বর্তমান অবস্থান বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত (Aroop Biswas)।

তদন্তে সহযোগিতার যুক্তি হাই কোর্টের (Aroop Biswas)
মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। গত ১০ জুন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ অরূপ বিশ্বাসকে ১৭ অগস্ট পর্যন্ত রক্ষাকবচ দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেছিলেন অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত।
শুনানিতে শতদ্রু দত্তের আইনজীবী অভিযোগ করেন, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ করছে না। পাল্টা অরূপের আইনজীবী কিশোর দত্ত মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। এরপর আদালত রাজ্যের কাছে জানতে চায়, প্রাক্তন মন্ত্রী তদন্তে সহযোগিতা করছেন কি না। রাজ্যের আইনজীবী ইতিবাচক উত্তর দিলে আদালত আপাতত রক্ষাকবচে হস্তক্ষেপ না করে শুনানি ২ জুলাই পর্যন্ত মুলতুবি রাখে।

মেসির সফর ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত (Aroop Biswas)
গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্বখ্যাত ফুটবলার লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের অতিরিক্ত উপস্থিতি এবং মেসিকে ঘিরে রাখার কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, নিরাপত্তাজনিত কারণে মেসিকে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়তে হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় প্রথমে মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত গ্রেফতার হন। পরবর্তী সময়ে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের হয় এবং তদন্তের আওতায় আনা হয় তাঁকে। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১০ জুন রক্ষাকবচ দেওয়ার সময় হাইকোর্ট মেসির সফর ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কলকাতার ভাবমূর্তির পক্ষে অত্যন্ত অস্বস্তিকর বলে মন্তব্য করেছিল। একইসঙ্গে অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা ও আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল আদালত। যদিও বর্তমান পর্যায়ে তদন্তে সহযোগিতার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।



