Saokat Molla
Bengal Liberty : একসময় দম্ভ দেখিয়ে বলতেন জীবনতলার রাস্তায় তাঁর ইশারা ছাড়া নাকি একটা ঘাসও গজাত না (Saokat Molla)। এখন সেই শওকত নিজেই পুলিশের ইশারায় পা মেলাচ্ছেন। এনআইএ-র জাঁতাকল পেরিয়ে জীবনতলা থানার হেফাজতে আসার পর, বৃহস্পতিবার তাকে নিয়ে একরকম ‘শোভাযাত্রা’ করে পুলিশ। দেখা যায় শওকতের কাচুমাচু মুখ, তাঁর চারিদিকে ঘিরে আছে পুলিশ। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে ” মাছ চোর, মাছ চোর শওকত তো মাছ চোর ” গান। শওকতের অবস্থা দেখে বলাই বাহুল্য, ক্ষমতার তেজ ফুরোলে বাঘের তকমা মুছে গিয়ে কেবল ‘মাছ চোর’-এর লেবেলই অবশিষ্ট থাকে (Saokat Molla)।

সিংহাসন থেকে ফুটপাত (Saokat Molla)
জীবনতলা বাজারে আজ নতুন করে ‘কার্নিভাল’ শুরু হয়েছে, তবে সেই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে কোনও সাফল্য নয়, বরং এক নেতার পতন। এক সময়ের দাপুটে বিধায়কের সামনে আজ কেউ ফুল ছিটিয়ে দিচ্ছে না, জুতো ছুড়ছে। বিডিও অফিসের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় শওকতের কাচুমাচু মুখ দেখে পথচলতি মানুষ হয়তো ভাবছিলেন, তার মুখ আর কপাল দুটোই পুড়েছে। চারদিক থেকে ঘিরে থাকা পুলিশ তাঁকে হয়তো রক্ষা করছে, কিন্তু জনরোষের সামনে তাঁর অতীত দাপট আজ স্রেফ কাঁচের মতো ভেঙে চুরমার।

‘মাছ চোর’ গানে বিদায় শওকতকে (Saokat Molla)
সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। একদা শওকতের নামে ভীত মানুষগুলোই আজ সমস্বরে গাইছে, ‘মাছ চোর, মাছ চোর’। রাজনীতির অঙ্কে মাছের বড় বড় ভেড়ি গিলে ফেলার গল্প মানুষ শুনেছিল, আজ সেই গল্পের ‘নায়ক’কে খোদ পুলিশের হাত ধরে মাছের বাজারের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে দেখে তৃপ্ত হচ্ছে জনতা। একদা ‘বিধায়ক’ হওয়ার অহংকার ধুয়েমুছে সাফ, আজ জীবনতলার রাস্তায় শওকত স্রেফ একজন সাধারণ ‘অভিযুক্ত’, যাঁর রাজনীতির ক্যানভাসে এখন শুধুই বিদ্রুপের কালি।



