Sabyasachi Dutta
Bengal Liberty: বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার এবং বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তের সঙ্গে নাম জড়ানো নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন নদিয়া জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্য টিনা ভৌমিক সাহা (Sabyasachi Dutta)। তবে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন শুনতেই কার্যত তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পাশাপাশি সব্যসাচী দত্তের ‘বান্ধবী-তত্ত্ব’ এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন এই নেত্রী। সাফ জানিয়েছেন, তিনি এক জন শিক্ষিকা এবং সমাজে সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচেন। তাই তাঁর নামে এই ধরনের ‘বান্ধবী’ তকমা দেওয়া যেন অবিলম্বে বন্ধ করা হয়।

মাঝরাতে পুলিশের হানা ও বিপুল সোনা উদ্ধার (Sabyasachi Dutta)
উল্লেখ্য, গত মাসের ২২ তারিখ গভীর রাতে নদিয়ার তেহট্টে টিনা ভৌমিক সাহার বাড়িতে অতর্কিতে হানা দিয়েছিল বিধাননগর থানার পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি ছিল, তোলাবাজি ও বেআইনি সম্পত্তি মামলায় ধৃত প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করতেন টিনা। সেই সূত্র ধরেই সব্যসাচীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর তেহট্টের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। ওই অভিযানে টিনার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৩ কেজি সোনার গয়না, যার বর্তমান বাজারমূল্য ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকারও বেশি। এই বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনার পরেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে যায়। বিরোধীরা এই নিয়ে শাসক দলকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে ক্ষোভ প্রকাশ (Sabyasachi Dutta)
এ দিন জেলা পরিষদের একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে এলে সোনা উদ্ধার প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রীকে ঘিরে ধরেন সাংবাদিকরা। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করতেই মেজাজ হারান তিনি। চড়া সুরে সংবাদমাধ্যমের দিকেই পাল্টা তোপ দেগে টিনা ভৌমিক সাহা বলেন, “আগে নিজেরা ঠিক করে নিন সাড়ে তিন কেজি না তিন কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে! সংবাদমাধ্যম একেক সময় একেক রকম তথ্য দিচ্ছে।”
এর পরেই ‘বান্ধবী’ তকমা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান তিনি। ক্ষুব্ধ নেত্রী বলেন, “আপনারা তো সূত্র মারফত আমাকে কারও না কারও বান্ধবী বানিয়ে দিচ্ছেন। রাজনীতিতে কারও না কারও মতাদর্শ মেনে আমরা সবাই চলি। আসলে আসল সম্পর্কটা কী, তা না জেনেই বান্ধবী বলে দিচ্ছেন। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

‘আইন আইনের পথে চলবে’ (Sabyasachi Dutta)
নিজের শিক্ষকতার পেশার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এবং সামাজিক সম্মানের বিষয়টিকে সামনে এনে টিনা আরও যোগ করেন, “বাড়িতে কী ঘটেছে বা পুলিশ কী পেয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ আইনি বিষয়। আইন আইনের পথে চলবে। এই নিয়ে আমার আলাদা করে কিছু বলার নেই। কিন্তু আমি একজন শিক্ষিকা, সমাজে সম্মানের সঙ্গে চলাফেরা করি। আমার একটা নিজস্ব পরিচিতি আছে। তাই আমাকে অহেতুক কারও বান্ধবী আ্যাখ্যা দেওয়া বন্ধ করুন।”
তৃণমূল নেত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে যখন উদ্ধার হওয়া বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রয়েছে, অন্যদিকে তখন নিজের সামাজিক সম্মান রক্ষায় সংবাদমাধ্যমের একাংশের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন এই নেত্রী। এখন আইনি লড়াইয়ে তিনি নিজেকে কতটা নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



