TMC logo
Bengal Liberty
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত নেতৃত্ব, দলীয় প্রতীক(TMC logo) এবং সংগঠনের বৈধতা নিয়ে চলা টানাপোড়েনের আবহে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সোমবার নির্ধারিত সময়ের আগেই নিজেদের দাবি-সংক্রান্ত নথি জমা দিল দুই শিবির। একদিকে কালীঘাট শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির—উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানের পক্ষে কমিশনের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা পেশ করেছে।

কালীঘাট শিবির(TMC logo)
কালীঘাট শিবিরের হয়ে নির্বাচন কমিশনে যান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং সাগরিকা ঘোষ। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও, তাঁর শিবিরের পক্ষ থেকে আইনজীবীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি ও ব্যাখ্যা জমা দেওয়া হয়।

নথি জমা দেওয়ার পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, আইনের দিক থেকে কালীঘাট শিবিরের অবস্থান যথেষ্ট শক্তিশালী। তাঁর বক্তব্য, ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে ‘পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে দলকে ঘাসফুল প্রতীক বরাদ্দ করেছিল নির্বাচন কমিশন। সে সময় দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর অন্তর জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের বিধান ছিল। পরে ২০০০ সালে দলের নাম পরিবর্তন করে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ করা হয় এবং গঠনতন্ত্র সংশোধন করে চার বছর অন্তর জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের নিয়ম করা হয়।

ঋতব্রত শিবিরের দাবি(TMC logo)
২০২২ সালে শেষবার জাতীয় কর্মসমিতি গঠিত হয়েছিল এবং তার মেয়াদ ২০২৫ সালেই শেষ হয়ে গিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমানে বিধানসভায় বিরোধী দল হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলই বৈধ পরিষদীয় দল।
ঋতব্রত শিবিরের এই দাবির পাল্টা জবাব দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যদি তা-ই হয়, তা হলে যাঁরা বিধায়ক হিসেবে জিতেছেন, তাঁদের জয়ও তো অবৈধ। কারণ, ২০২৫ সালে যদি দলের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়ে থাকে, তা হলে ২০২৬ সালের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত অনুমোদন নিয়ে তাঁরা দলীয় প্রতীক ব্যবহার করলেন কী করে?” এখন দুই পক্ষের জমা দেওয়া নথি ও আইনি যুক্তি খতিয়ে দেখে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত সাংগঠনিক নেতৃত্ব, দলীয় প্রতীক এবং দলের তহবিলের বৈধ দাবিদার কারা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

