Baruipur
Bengal Liberty : রবিবার সকাল। বারুইপুরের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় এক নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ (Baruipur)। শনিবার থেকেই নিখোঁজ ছিল ওই ১২ বছরের শিশুটি। অভিযোগ, তাকে অপহরণ ও ধর্ষণের পর খুন করে দেহটি বস্তাবন্দি অবস্থায় পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এই নৃশংস ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। কিন্তু সেই ক্ষোভ স্তিমিত হওয়ার আগেই, ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই এলাকা থেকে উদ্ধার হয় আরও এক বৃদ্ধের দেহ। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, বারুইপুরে ঠিক কী ঘটছে (Baruipur)?

আতঙ্কস্থল বারুইপুর (Baruipur)
এক সময় বারুইপুরের মূল পরিচিতি ছিল সুস্বাদু পেয়ারা চাষের জন্য। অথচ আজ সেই সুনামের পাশে বারবার জায়গা করে নিচ্ছে অপরাধ, খুন, ধর্ষণ আর দেহ উদ্ধারের মতো নৃশংস খবর। স্থানীয়দের দাবি, গত ছয় মাসে এই একই এলাকায় অন্তত পাঁচটি দেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত হলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের মনে থেকে গেছে একটাই প্রশ্ন— প্রকৃত অপরাধীরা কি সত্যিই আইনের নাগালে এসেছে?
তলানিতে পুলিশি ভরসা? একটি সভ্য সমাজে মানুষের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তার জায়গা হলো এই বিশ্বাসটুকু যে— “বিপদে পুলিশ পাশে থাকবে”। কিন্তু সেই বিশ্বাসে যখন ফাটল ধরে, তখন আতঙ্কই হয়ে ওঠে নিত্যসঙ্গী। বারুইপুরের বহু বাসিন্দার অভিযোগ, এলাকায় অপরাধের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হলেও সেই অনুপাতে প্রতিরোধমূলক পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়নি। যদিও পুলিশ এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, তদন্ত চলছে এবং ইতিমধ্যেই গ্রেফতারিও হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের পাল্টা প্রশ্ন— অপরাধ ঘটে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়াই কি যথেষ্ট? অপরাধ যাতে না ঘটে, তা আগে থেকে রুখে দেওয়ার দায়িত্ব কি প্রশাসনের নয়?

চলতি পদক্ষেপ (Baruipur)
বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। পুলিশ এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে, জাতীয় মহিলা কমিশনও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রাজ্যের ডিজিপির (DGP) কাছে আগামী সাত দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। শিকড় যেখানে আলগা এই সব প্রশাসনিক পদক্ষেপ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তদন্তের পাশাপাশি আরও একটা বড় প্রশ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে— কেন একের পর এক এমন ঘটনা ঘটছে?অপরাধ কখনও একদিনে জন্ম নেয় না। সমাজে যখন দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব, আইনভঙ্গের প্রবণতা এবং অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়, তখনই দুষ্কৃতীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। নারীর নিরাপত্তাহীনতা, খুন, গুলির রাজনীতি কিংবা স্থানীয় সন্ত্রাস— এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এগুলো সামগ্রিক প্রশাসনিক সক্ষমতারই এক একটি কঠিন পরীক্ষা।
Mamata Banerjee : মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বলতেন ‘সাজানো ঘটনা’, ক্ষমতাচ্যুত হতেই মমতার হাতে মোমবাতি!
শিকড় যেখানে আলগা (Baruipur)
এই সব প্রশাসনিক পদক্ষেপ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তদন্তের পাশাপাশি আরও একটা বড় প্রশ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে— কেন একের পর এক এমন ঘটনা ঘটছে? অপরাধ কখনও একদিনে জন্ম নেয় না। সমাজে যখন দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব, আইনভঙ্গের প্রবণতা এবং অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়, তখনই দুষ্কৃতীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। নারীর নিরাপত্তাহীনতা, খুন, গুলির রাজনীতি কিংবা স্থানীয় সন্ত্রাস— এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এগুলো সামগ্রিক প্রশাসনিক সক্ষমতারই এক একটি কঠিন পরীক্ষা।

শেষ কথা (Baruipur)
এই মুহূর্তে বারুইপুরের মানুষ শুধু অপরাধীদের গ্রেফতারি চান না, তাঁরা স্থায়ী নিরাপত্তা চান। তাঁরা এমন একটি প্রশাসন চান, যেখানে কোনো পরিবারকে সন্তানের খোঁজে আতঙ্কে রাত কাটাতে হবে না, কোনো মা-বাবাকে পুকুর থেকে সন্তানের নিথর দেহ উদ্ধার করতে হবে না। তাঁরা চান, বারুইপুরের পরিচয় যেন অপরাধের চাদরে ঢাকা না পড়ে, বরং তা স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনের জন্য চেনা যায়। বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তবে তার চেয়েও বেশি জরুরি, এমন পরিস্থিতি যাতে আর কোনোদিন তৈরি না হয়, সেই নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা। কারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, সরকারের সক্ষমতারও সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আজ সেই অগ্নিপরীক্ষার মুখেই দাঁড়িয়ে রয়েছে বারুইপুর ও রাজ্যের প্রশাসন।

আরও পড়ুন :
Baruipur : বারুইপুর-কাণ্ডে ৭ দিনের মধ্যে ডিজিপির কাছে রিপোর্ট তলব জাতীয় মহিলা কমিশনের

