Mamata Banerjee
Bengal Liberty : তৃণমূল নেত্রী মমতার হাতে মোমবাতি। কণ্ঠে, “তোমার আমার এক সুর/ জাস্টিস ফর বারুইপুর।” কিন্তু এ কোন নেত্রী? ইনিই কি সেই নেত্রী যিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ধর্ষণের ঘটনার ‘জাস্টিস’ চায়লেই মেজাজ হারাতেন! ধর্ষিতার চরিত্রে দাগ খুঁজতেও ছাড়তেন না তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। মহিলাদের রাত্রে না বেরোনোরও নিদান দিতে পিছু পা হননি। এবার বারুইপুর কাণ্ডে তাঁর হাতেই মোমবাতি। কিন্তু নেত্রীর এই দ্বিচারিতা কেউ কি মেনে নেবে? কাটোয়া গণধর্ষণ কান্ড হোক বা কামদুনি ধর্ষণ কান্ড, ১৫ বছরে চেয়ারে থাকা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা সবটাই সাজানো ঘটনা বলে উড়িয়ে দিতেন। আর জি কর কাণ্ডে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের সুবিচার চেয়ে পথে নামা আন্দোলনকে ‘হুজুগ’ বলে দাগিয়ে দিয়েছিলেন। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ক্ষমতা হারানোর পরেই সুবিচারের মর্ম বুঝলেন তিনি? এতদিন কি তাঁর নারী-দরদ শুধুই রাজনৈতিক বুলি ছিল? সাধারণ মানুষের মনে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে (Mamata Banerjee)।

আর জি কর কাণ্ডে কী করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী? (Mamata Banerjee)
আর জি কর কাণ্ডের পর থেকেই অভিযোগ উঠেছিল, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আড়াল করতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর মামলার নথি নতুন করে খতিয়ে দেখার সময় একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ, নির্যাতিতার ভিসেরার নমুনা নষ্ট করার নির্দেশও নাকি দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট হয়ে যায়। সমালোচকদের দাবি, সেই কারণেই প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল এবং তদন্তকারী সংস্থাও শেষ পর্যন্ত সব তথ্যের নাগাল পায়নি। যদিও মামলার বিচার ও সাজা কার্যকর হয়েছে, তবুও প্রমাণ নষ্টের অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক আজও থামেনি।
CM Suvendu Adhikari : শ্যামাপ্রসাদের আদর্শেই চলবে রাজ্য! ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মমতা (Mamata Banerjee)
আর জি কর কাণ্ডে সুবিচারের দাবিতে ‘রাতদখল’ আন্দোলন রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশে আলোড়ন তুলেছিল। কিন্তু সেই আন্দোলনকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ‘হুজুগ’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, সরকার বিচার প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সময়ে কলকাতা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরাও একাধিক সাংবাদিক বৈঠকে তদন্তের ব্যাখ্যা দিয়ে কিছু ব্যক্তিকে কার্যত ক্লিনচিট দেন। কিন্তু পরে তাঁদের মধ্যেই কয়েকজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। এমনকি তদন্তে ভূমিকা থাকা কলকাতা পুলিশের তিন পদাধিকারীও বর্তমানে সাসপেন্ডেড। ফলে সেই সময়ের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

বারুইপুরে ‘জাস্টিস’ মিছিল ঘিরে উঠছে দ্বিচারিতার প্রশ্ন (Mamata Banerjee)
রাজ্যে পালাবদলের পর এখন বিরোধী শিবিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় নতুন সরকার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে মূল অভিযুক্ত-সহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। এই দ্রুত পদক্ষেপের মধ্যেই মোমবাতি মিছিল করে ‘জাস্টিস ফর বারুইপুর’ স্লোগান তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমালোচকদের একাংশের দাবি, এই স্লোগান ও আন্দোলনের ধরন অনেকটাই আর জি কর আন্দোলনের ‘জাস্টিস ফর আর জি কর’ প্রতিবাদের কপি রাইট। সেই কারণেই প্রশ্ন উঠছে, যে আন্দোলনকে একসময় তিনি ‘হুজুগ’ বলেছিলেন, আজ একই ধরনের প্রতিবাদের পথেই কেন হাঁটছেন? মমতার এই দ্বিতীয় রূপ কি মেনে নেবে জনগণ?

আরও পড়ুন :
Baruipur Case : “আগের মুখ্যমন্ত্রী থাকলে শুধু আশাই দিত” বারুইপুর কাণ্ডে বিস্ফোরক তামান্নার মা

