Mamata Banerjee
Bengal Liberty
আরজিকর কাণ্ডে যখন সারা বিশ্ব (Mamata Banerjee) নড়ে উঠেছিল, তখন কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ তৃণমূলের হারের পর সেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীই ফের প্রতিবাদী রূপ ধারণ করে সবুজ মোমবাতি হাতে কালীঘাটের রাস্তায় নামলেন। সোমবার নিজের বাসভবন থেকে যাত্রা শুরু করে হাজরার দিকে এগিয়ে যায় তাঁর এই প্রতিবাদী মিছিল।


বারুইপুর ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ দিন রাস্তায় নামেন মমতা। আজ তৃণমূল বিরোধী দল হতেই যেন মহিলা সুরক্ষায় সবচেয়ে বেশি সরব হলেন তিনি। মিছিল আটকাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যারিকেড দিলেও তা ব্যর্থ হয়; সকল বাধা টপকে, ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল নিয়ে হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটের মূল রাস্তায় পৌঁছে যান তৃণমূল দলনেত্রী। মমতার এই আকস্মিক প্রতিবাদী রূপ রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনার সৃষ্টি করেছে।
মিছিল ঘিরে তীব্র কটাক্ষ(Mamata Banerjee)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোমবাতি হাতে এই পথ-প্রতিবাদকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতায় থাকাকালীন রাজ্যে একাধিক নৃশংস ধর্ষণ কাণ্ডের পর অপরাধীদের যোগ্য শাস্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছিল তাঁর সরকার। ২০১৩ সালের কামদুনি গ্রামের কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ কিংবা ২০২৪ সালের আরজিকরের মহিলা চিকিৎসককে নিগ্রহের মতো ভয়াবহ ঘটনাগুলির ক্ষেত্রেও কঠোর পদক্ষেপ করতে দেখা যায়নি তাঁকে। উপরন্তু রাজ্যবাসীকে তিনি নিদান দিয়েছিলেন, মেয়েরা যেন রাত আটটার পর বাড়ির বাইরে না বেরোন! অন্যায়কারীদের শাস্তি দেওয়ার বদলে বরাবর প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অথচ রাজ্যে পালাবদল হতেই তাঁর রাজনৈতিক রূপ যেন এক লহমায় বদলে গেল। এবার মোমবাতি হাতে পুরো দলকে নিয়ে প্রতিবাদে নামলেন দলনেত্রী। বিরোধীদের প্রশ্ন, “বিগত পনেরো বছর ধরে কেন নির্বাক ছিলেন তিনি? ক্ষমতায় থাকাকালীন কেন এই ধরনের কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হলো না?”

আরজিকর ছাড়াও কামদুনি কিংবা হাঁসখালির মতো একাধিক নারী নির্যাতনের ঘটনায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কোনো দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলে দাবি বিরোধীদের। আশ্চর্যজনকভাবে, ‘ওরা করেছিল, অতএব আমরাও করব’—রাজনীতির এই চেনা সমীকরণেই ফের কটাক্ষের শিকার হলেন মমতা। বিরোধী মহলের স্পষ্ট অভিযোগ, বারুইপুরের ঘটনায় আজ যিনি মোমবাতি হাতে পথে নেমেছেন, তিনিই আরজিকর, কামদুনি বা সন্দেশখালির মতো ঘটনায় জনগণের মুখ বন্ধ করতে অস্ত্র ও লাঠিধারী গুন্ডাবাহিনী নামিয়েছিলেন। সোমবার বিকেলের এই হাইভোল্টেজ মিছিলকে ঘিরে বর্তমান রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো জোর তরজা শুরু হয়েছে।

