Spain Vs Belgium
Bengal Liberty
চলতি ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম(Spain Vs Belgium) কোয়ার্টার-ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে প্রবেশ করল স্পেন।ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে খেলার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দিকে নিয়ে ম্যাচ পরিচালনা করছিল স্পেন। বেলজিয়াম লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও চেনা-পরিচিত বারবার ম্যাচে ফিরে আসা বেলজিয়াম দলকে দেখা গেল না। তার বদলে মনে হচ্ছিল, সেই ২০১৮ সালের বেলজিয়াম দলকে দেখছি, যাদের দলে ক্লাব পর্যায়ে জমজমাট ফুটবলাররা দেশের জার্সিতে খেলতে ভুলে গিয়েছিল। ঠিক সেই বেলজিয়াম দলটিই আজ সবার চোখে পড়ল।


অন্যদিকে স্পেন, যারা গ্রুপ পর্বে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া এবং দল কেপ ভার্ডের কাছে আটকে গেলেও পরবর্তী ম্যাচগুলিতে নিজেদের প্রতিপক্ষকে খুব সহজেই হারিয়ে পরপর নকআউট পর্বে প্রবেশ করে। শেষ পর্যন্ত বেলজিয়ামকে বধ করে ফের একবার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে পৌঁছাল স্পেন। ২০১০ ফিফা বিশ্বকাপের পর পরপর তিনটি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার নজির গড়ে, ফের ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে স্পেনের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটল। তরুণ তুর্কিদের নিয়েই অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটালেন উয়েফা ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। যেখানে অন্য দল গুটিকয়েক খেলোয়াড়ের উপর নির্ভর করে আছে, সেখানে স্পেন কোনো এক বা দুজন খেলোয়াড়ের উপর নির্ভরশীল নয়। পুরো ১১ জন সদস্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা বেলজিয়াম ম্যাচেই আবার প্রমাণ হয়ে গেল।
প্রথমার্ধের খেলায় দুই দল সমানে সমানে(Spain Vs Belgium)
রেফারির বাঁশির সঙ্গে সঙ্গেই স্পেন দুর্দান্ত ছন্দে আক্রমণের দিকগুলি খুলতে শুরু করে। আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের দখলও পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় স্পেন। আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ৩০ মিনিটে রুইজের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা৩০ মিনিটে এগিয়ে গেলেও ঠিক তার ১১ মিনিটের মধ্যেই, বিরতির ঠিক আগে ৪১ মিনিটে কেটেলেইরের অসাধারণ গোলে স্কোরলাইন ১-১ হয়ে যায়। গোল পরিশোধ করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিল বেলজিয়াম।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা(Spain Vs Belgium)
বিরতির পর ১-১ স্কোরলাইন নিয়েই শুরু হয় বিশ্বকাপের ইউরোপিয়ান মেগা ডুয়েল। প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্পেনের দিকেই ছিল। পাসিং, শুটিং, বল ক্লিয়ার করা- প্রতিটি বিভাগেই স্পেনকে কেউ ছুঁতে পারেনি। গোল পরিশোধ করলেও এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি যে স্পেন কোনো রকম চাপে আছে। উল্টে চাপ সহ্য করেই বাজিমাত করে বেরিয়ে গেল স্পেন। অন্যদিকে বেশি কিছু করতে গিয়ে ম্যাচ খেলতেই ভুলে গেল বেলজিয়াম। তার খেসারত হিসেবে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হল।
আরো পড়ুন:-
PM Narendra Modi : নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বে ভারত
আবারও মেরিনোর গোলে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করল স্পেন(Spain Vs Belgium)
স্পেন বনাম পর্তুগালের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে সুপার-সাবের ভূমিকায় মেরিনোর একেবারে শেষ মুহূর্তের গোলে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নকে ধুলিসাৎ করে এগিয়ে গিয়েছিল স্পেন। ঠিক যেন সেই ম্যাচের পুনরাবৃত্তি। ফের একবার সুপার-সাবের ভূমিকায় মেরিনো।

যখন মনে হচ্ছিল নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর ইনজুরি টাইমে খেলা গড়াবে, ঠিক সেই সময় পর্তুগাল ম্যাচের স্মৃতিকে উসকে দিয়ে ৮৮ মিনিটে জয়সূচক গোল করে বেলজিয়ামের বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ওঠার স্বপ্নকে চুরমার করে দিলেন তিনি। আবারও স্মরণীয় জয় তুলে নিল স্পেন। এরই সঙ্গে আবারও প্রমাণ হল, তারকাসমৃদ্ধ দল করে ম্যাচ জেতা যায়, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সময় পুরো দলকেই দরকার হয়। ২-১ গোলে বেলজিয়ামকে পরাজিত করে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে উঠে এল স্পেন। সঙ্গে আরেকটি মেগা ইউরোপিয়ান দ্বৈরথ দেখার অপেক্ষায় গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা।
সামনে ফ্রান্স(Spain Vs Belgium)
বুধবার, ১৫ জুলাই ভারতীয় সময় রাত ১২:৩০ মিনিটে ডালাস স্টেডিয়াম, আর্লিংটন থেকে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ম্যাচে প্রথম সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই ইউরোপিয়ান পাওয়ারহাউস ফ্রান্স ও স্পেন। দুই দলই অসাধারণ, অপ্রতিরোধ্য। এরই সঙ্গে লামিনে ইয়ামাল বনাম কিলিয়ান এমবাপের জমজমাট লড়াইয়ের জন্য দর্শকেরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছেন। শেষ পর্যন্ত কোন দল সেমি-ফাইনালের বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালের দিকে এগিয়ে যাবে, সেই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

