Sravan Mela
সেবাকেন্দ্র, পুষ্পবৃষ্টি ও নিরাপত্তায় বিশেষ জোর (Sravan Mela)
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে শ্রাবণ মাস অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ। এই মাসকে মহাদেবের আরাধনার শ্রেষ্ঠ সময় বলে মনে করা হয়। শ্রাবণ মাস জুড়ে শিবভক্তরা উপবাস, পুজো এবং জলাভিষেকের মাধ্যমে ভোলেনাথের আশীর্বাদ লাভের প্রার্থনা করেন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক পুণ্যার্থী বিশেষ করে তারকেশ্বর ধামে গিয়ে বাবা তারকনাথের মাথায় জল ঢালেন। সেই বিপুল সংখ্যক ভক্তের নিরাপত্তা ও সুবিধার কথা মাথায় রেখেই একাধিক বড় উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে।

এবারের শ্রাবণ মেলাকে কেন্দ্র করে হুগলির তারকেশ্বর ধাম, জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির এবং জয়ন্তী এলাকার একটি শিবমন্দিরে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর যাওয়ার পথে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর অস্থায়ী সেবাকেন্দ্র তৈরি করা হবে। সেখানে বিশ্রামের ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওআরএস (ORS), প্রাথমিক চিকিৎসা এবং জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা মিলবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থাকবে পুলিশের সহায়তা শিবির।
ঘোষণায় জানানো হয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার জলযাত্রীদের ওপর সরকারি হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে। এ ছাড়া, মুখ্যমন্ত্রী নিজে তারকেশ্বর ধামে গিয়ে পুজো দেবেন এবং কলকাতার ইসকনের রথযাত্রাতেও অংশ নেবেন।

তারকেশ্বর ধামের উন্নয়নের জন্য ১৫ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজও চলছে। সরকারের দাবি, তীর্থযাত্রীদের জন্য আরও উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
সরকারের মতে, এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করাই নয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সুবিধাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রাবণ মাসে দীর্ঘ পথ হেঁটে জল নিয়ে যাওয়া ভক্তদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয় এবং তাঁরা নির্বিঘ্নে বাবা তারকনাথের আরাধনা করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে অনেকেই ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা এবং তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

