Shahid Diwas
Bengal Liberty: ২১ জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’কে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই নতুন মোড়। ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস চত্বরে ৬০ দিনের জন্য ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১৬৩ ধারা জারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন কালীঘাট তৃণমূলের তরফে সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ডেরেকের আইনজীবী তথা প্রবীণ তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালত মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। আগামী ১৫ জুলাই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

১৬৩ ধারাকে চ্যালেঞ্জ (Shahid Diwas)
সম্প্রতি কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ধর্মতলা ও ভিক্টোরিয়া হাউস সংলগ্ন এলাকায় ৬০ দিনের জন্য ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। এর ফলে ওই এলাকায় যেকোনো ধরনের জমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আদালতে আবেদনকারীর দাবি, পুলিশের এই নির্দেশিকা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী এবং সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী। তাই অবিলম্বে এই নির্দেশিকা বাতিলের আর্জি জানানো হয়েছে।

এদিকে, ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূলের দাবি—তারাই প্রকৃত তৃণমূল এবং দলের মূল রাজনৈতিক ঐতিহ্যের আসল উত্তরাধিকারী। রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত ঘোষণা করেন, তাঁদের শহিদ দিবসের মূল কর্মসূচি জওহরলাল নেহেরু রোডের গান্ধী মূর্তির পাদদেশেই অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে, কালীঘাট তৃণমূলও ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু করেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জেলা স্তরের নেতা ও কর্মীদের বিপুল সংখ্যায় এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ধর্মতলায় পুলিশের নিষেধাজ্ঞা এবং একই দিনে দুই শিবিরের পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণাকে ঘিরে রাজ্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এখন সবার নজর আগামী ১৫ জুলাই হাইকোর্টের শুনানির দিকে। আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই মূলত নির্ভর করছে ২১ জুলাই ধর্মতলায় কার কর্মসূচি কতটা বাস্তবায়িত হতে পারবে এবং রাজনৈতিকভাবে কোন শিবির শেষ পর্যন্ত টেক্কা দেবে।

