Baruipur
Bengal Liberty : বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ-খুন মামলার তদন্তে আরও এক ধাপ এগোল বিশেষ তদন্তকারী দল (Baruipur)। মঙ্গলবার অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। উপস্থিত ছিল ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের দলও। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা হয় একাধিক নমুনা। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, ঘটনার প্রতিটি মুহূর্ত খুঁটিয়ে মিলিয়ে দেখা এবং আদালতে শক্তিশালী প্রমাণ পেশের জন্য তথ্য-প্রমাণ আরও মজবুত করা (Baruipur)।

অভিযুক্তদের নিয়ে ঘটনাস্থলে সিট (Baruipur)
মঙ্গলবার সকালে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে বারুইপুরের ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সিট। সঙ্গে আনা হয় মামলার তিন অভিযুক্ত-কবীর মোল্লা, আনন্দ সর্দার এবং দিবাকর সর্দারকে। অভিযোগ, রেললাইনের ধারে যে জায়গায় নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল, তদন্তকারীরা প্রথমে সেই স্থানেই যান। এরপর অভিযুক্তদের দিয়ে ঘটনার প্রতিটি ধাপ পুনর্নির্মাণ করানো হয়। পুরো প্রক্রিয়ার সময় ২ জন সাক্ষীকেও উপস্থিত রাখা হয়েছিল। একইসঙ্গে ফরেন্সিক দলের সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন।
উল্লেখ্য, ঠিক এক সপ্তাহ আগেই একইভাবে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে। সেই সময় পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় তার। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণ চলাকালীন এক তদন্তকারী আধিকারিকের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস। এমনকি এক রাউন্ড গুলিও চালায়। এরপর আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। সেই ঘটনার পর মঙ্গলবার ফের বাকি তিন অভিযুক্তকে নিয়ে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ এই পর্ব সম্পন্ন করল সিট।

মুখ্যমন্ত্রীর নজরে তদন্ত (Baruipur)
গত শনিবার বারুইপুরে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, গোটা তদন্ত তাঁর সরাসরি নজরদারিতেই চলছে। তদন্ত এমনভাবে করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী হিসেবেও তিনি তদন্ত দ্রুত শেষ করে দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর নির্যাতিতার বাবাও তদন্তের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, পুলিশের তদন্তে তাঁরা আস্থা রাখছেন।
এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই চারটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। প্রথমটি নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে। দ্বিতীয়টি প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলাকালীন গণপিটুনিতে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। তৃতীয় মামলায় রয়েছে পুলিশের উপর হামলা, রাস্তা অবরোধ এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ। আর চতুর্থ মামলাটি রেল অবরোধ ও রেলের সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে। চারটি মামলারই তদন্ত সমান্তরালভাবে চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

আরও পড়ুন :
Newtown: নিউটাউনে কোটি টাকা উদ্ধারকাণ্ডে দেবরাজকে নিশানা বিজেপির

