India-UK Trade Deal
Bengal Liberty: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ (CETA)। এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। ব্রেক্সিট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ব্রিটেনের কাছে যেমন ভারতের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই ভারতের কাছেও ব্রিটিশ বাজার উন্মুক্ত হওয়া এক বড় জয়।
কী কী সস্তা হচ্ছে? (India-UK Trade Deal)
চুক্তির আওতায় ভারত ধাপে ধাপে প্রায় ৯০ শতাংশ ব্রিটিশ পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়ে আনবে। এর ফলে ভারতীয়দের কাছে আরও সাশ্রয়ী হবে:
স্কচ হুইস্কি ও জিন: বর্তমান ১৫০% শুল্ক কমে প্রথমে ৭৫% হবে এবং আগামী ১০ বছরে তা ৪০%-এ নেমে আসবে।
গাড়ি ও অটো পার্টস: ব্রিটিশ গাড়ির ওপর বর্তমান ১১০% শুল্ক ধাপে ধাপে কমে ১০%-এ পৌঁছাবে। ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়িও এই সুবিধার আওতায় থাকবে।
খাদ্য ও প্রসাধন সামগ্রী: চকোলেট, বিস্কুট, সফট ড্রিংকস এবং কসমেটিক্সের দামও কমবে।

ভারতীয় রফতানিকারকদের বড় জয় (India-UK Trade Deal)
এই চুক্তির সবচেয়ে বড় দিক হলো, ভারত থেকে রফতানি করা ৯৯ শতাংশ পণ্যের ওপর ব্রিটেন কোনো আমদানি শুল্ক নেবে না। এর ফলে বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য, জুতো, রত্ন ও গয়না, সামুদ্রিক খাদ্য এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতীয় রফতানিকারকরা বিশ্ববাজারে বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবেন।
পেশাজীবীদের জন্য বড় স্বস্তি (India-UK Trade Deal)
চুক্তির সঙ্গে কার্যকর হওয়া ‘ডাবল কন্ট্রিবিউশন কনভেনশন’ (DCC) অনুযায়ী, ব্রিটেনে কর্মরত ভারতীয় আইটি পেশাজীবীদের আর দুই দেশে দ্বৈত সামাজিক সুরক্ষা কর দিতে হবে না। এর ফলে তাঁদের বেতনের প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত সঞ্চয় বাড়বে, যা ভারতের প্রভিডেন্ট ফান্ডে (PF) জমা করা যাবে।

কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা (India-UK Trade Deal)
দেশের কৃষিখাতকে সুরক্ষিত রাখতে ভারত সরকার এই চুক্তির আওতা থেকে দুগ্ধজাত পণ্য, আপেল, চিনি, চাল, মুরগি ও ডিমের মতো সংবেদনশীল কৃষিপণ্যগুলোকে সম্পূর্ণ বাইরে রেখেছে। ফলে দেশীয় কৃষকদের বিদেশি পণ্যের সরাসরি প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে ২০৪০ সালের মধ্যে ভারত ও ব্রিটেনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

